ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রথমে হাকিম চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন টিএসসি এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ ঘটে হাকিম চত্বরে এবং অপর দুটি টিএসসি এলাকায়। প্রায় তিন মিনিটের ব্যবধানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু টিএসসি ও হাকিম চত্বরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশ, ভিসি চত্বর, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ এবং নীলক্ষেত-সংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ও নীলক্ষেত এলাকার বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পরপরই কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁদের ধাওয়া করেন। পরে তাঁদের সহায়তায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হলে পরবর্তী সময়ে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আটকের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার একটি অংশ তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ সময় আটক ব্যক্তিদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁদের প্রশাসন ও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং জানান, টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন। তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হচ্ছিল। এ ঘটনায় শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
প্রাথমিকভাবে এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…