বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মানবাধিকারগত প্রভাব পর্যবেক্ষণে গবেষণা কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা Agence Française de Développement (AFD)-এর পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. ফরিদ লামারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও জলবায়ু নীতি নিয়ে একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে AFD-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিউম্যান ম্যাক্স উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও জলবায়ু নীতি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। গবেষণা প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মানবাধিকারকে প্রভাবিত করছে, তা সুশৃঙ্খলভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্য সংগ্রহের একটি কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়, এই কাঠামো ভবিষ্যতে সরকার, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে। গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি গবেষণা কমিটি ও বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে প্রকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী দূষণ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে আরও যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ ধরনের যৌথ গবেষণা উদ্যোগের জন্য ফরাসি বিশেষজ্ঞকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য। এ সময় দেশের নদ-নদীকে রাসায়নিক দূষণ থেকে মুক্ত করতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।