ঢাকা- শরতের সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ফুলের সুবাস আর নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল আনন্দমুখর। প্রকৃতির এই মনোহর রূপের মেলবন্ধনে ইনস্টিটিউটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আজ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ (২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ), মঙ্গলবার আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও শরৎ উৎসব-২০২৬’।
ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এই জমকালো উৎসবে নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা ও রোমাঞ্চকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রধান অতিথির বক্তব্য:
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,
"আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি গঠনে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সর্বোচ্চ সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।"
তিনি ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, "এই তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবর্তন ও অগ্রযাত্রাতেও তাদের একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে।"
বিশেষ অতিথিদের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও নিয়মানুবর্তিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,
"জীবনের প্রতি পদে সফল হতে হলে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। শিক্ষা জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তরুণদের অদম্য গতিতে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।"
বিশেষ অতিথিগণ তাঁদের বক্তব্যে নবীনদের বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন ও গবেষণামুখী শিক্ষায় মনোনিবেশ করার তাগিদ দেন।
তিন পর্বে সাজানো দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা:
৩২তম ব্যাচের উদ্যোগে এবং ‘তেজস্বী ৩০’-এর বিশেষ সৌজন্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে তিনটি উৎসবমুখর পর্বে ভাগ করা হয়:
-
প্রথম পর্ব (সকাল ৯:০০ টা): জাতীয় সংগীত, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ পর্ব। এখানে নবীনদের ফুল ও উপহারসামগ্রী দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবারে স্বাগত জানানো হয়।
-
দ্বিতীয় পর্ব (সকাল ১০:০০ টা): মনোরম ‘শরৎ উৎসব’ ও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
-
তৃতীয় পর্ব (দুপুর ১২:০০ টা): শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমজমাট মিউজিক্যাল পরিবেশনা ও বর্ণাঢ্য সমাপনী পর্ব।
উৎসবের আমেজে সাজানো আইইআর প্রাঙ্গণ:
নবীনদের বরণ ও শরৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে আইইআর প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশ সাজানো হয় দৃষ্টিনন্দন আল্পনা, রঙিন পাতাকা ও চমৎকার সাজসজ্জায়। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল উৎসবের চেনা ব্যস্ততা ও আমেজ। সারাদিন ধরে চলে গান, চোখ জুড়ানো নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ ও প্রাণখোলা আড্ডা।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও নবীনদের অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আনন্দ ও সৌহার্দ্যের এক মহাসমুদ্রে। নবীন শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী এই ইনস্টিটিউটের অংশ হতে পেরে নিজেদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন। শিক্ষকবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই ৩১তম ব্যাচ তাঁদের মেধা ও মনন দিয়ে ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের নাম সুনাম ও গৌরবের সাথে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…