মেয়েদের হলের ক্যান্টিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে ক্যান্টিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পুরুষদের নিয়োগ এবং তাদের হলের অভ্যন্তরে চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে Dhaka University Students Alliance (DUSA)। সংগঠনটির দাবি, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেয়েদের হলের ক্যান্টিন ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমে নারী কর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে DUSA অভিযোগ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নারী আবাসিক হলে ক্যান্টিনকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পুরুষ কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির ভাষ্য, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক পরিবেশে এ ধরনের ব্যবস্থাপনা তাদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও ব্যক্তিগত পরিসরের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। DUSA আরও দাবি করেছে, কয়েকটি হলের ক্যান্টিনকর্মীদের আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোনো শিক্ষার্থী ক্যান্টিনকর্মীদের অস্বস্তিকরভাবে তাকিয়ে থাকার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি হso লের ক্যান্টিন এমন স্থানে স্থাপিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যেখান থেকে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষের দিকে সরাসরি দৃষ্টিসীমা তৈরি হতে পারে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি একটি নারী আবাসিক হলের একজন ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে পূর্বে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মামলা, আদালতের নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য DUSA-এর প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কর্মীদের নিয়োগ ও পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টিও যুক্ত করে সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে আরও কার্যকর নজরদারি ও যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছে। DUSA-এর বক্তব্যে সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি মনে করে, নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হল-প্রবেশ ও দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনেও পরিবারের সদস্য বা পরিচিত নারী-পুরুষের প্রবেশ নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অথচ ক্যান্টিন বা অন্যান্য সেবামূলক কাজে নিয়োজিত পুরুষ কর্মীদের হলের ভেতরে নিয়মিত প্রবেশ ও চলাচলের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কাছে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। একজন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নারী শিক্ষার্থীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নীতিমালা ও বাস্তব ব্যবস্থাপনার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন, নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে একদিকে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও পুরুষ সেবাকর্মীদের হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও চলাচলের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিরাপত্তা প্রশ্ন কেন বিবেচিত হবে না। DUSA নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নারী হলগুলোর ক্যান্টিন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের নিয়োগ ও পরিচয় যাচাই, তাদের দায়িত্ব পালনের সীমা এবং হলের ভেতরে চলাচলের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা বা সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হলের ভেতরের প্রতিটি সেবাব্যবস্থা, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে DUSA। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠনগুলোকে বিষয়টি নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, মেয়েদের হলের ক্যান্টিনে পুরুষ কর্মী নিয়ে উদ্বেগ
মেয়েদের হলের ক্যান্টিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে ক্যান্টিন ও
ঢা
Tanvir Khan
প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২৬
মন্তব্য
পাঠকের আলোচনা
লোড হচ্ছে…