ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলে শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদ। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ও অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হলের প্রতিটি ফ্লোরে থাকা পানির ফিল্টারের কিট পরিবর্তনের তারিখ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে হলের প্রতিটি পানির ফিল্টারের সঙ্গে থাকা বোর্ডে কিট সর্বশেষ পরিবর্তনের সঠিক তারিখ (Exact Date) উল্লেখ করা থাকবে। ফলে কোনো ফিল্টারের কিট সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে, তা শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি ফিল্টারের কিট পরিবর্তনের তারিখের একটি দৃশ্যমান রেকর্ডও সংরক্ষিত থাকবে।

এর আগে কোনো ফিল্টারের কিট পরিবর্তন করা হলেও সেটি সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে এ তথ্য শিক্ষার্থীদের কাছে সবসময় সহজে দৃশ্যমান বা যাচাইযোগ্য ছিল না। নতুন উদ্যোগের ফলে কিট পরিবর্তনের সময় ও তারিখ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট ধারণা থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে।

নির্ধারিত মেয়াদে কিট পরিবর্তনের সুযোগ

শুধু সর্বশেষ পরিবর্তনের তারিখ প্রদর্শন নয়, কিটের নির্ধারিত কার্যকারিতা বা মেয়াদ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তা যথাসময়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো ফিল্টারের কিটের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি তা সময়মতো পরিবর্তন করা না হয়, তাহলে বিষয়টি সহজেই শনাক্ত করে হল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা সম্ভব হবে।

ফলে পানির ফিল্টারের কিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, সময়ানুবর্তিতা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো তৈরি হবে বলে মনে করছে হল সংসদ।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার সুযোগ

কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরাও ফিল্টার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আরও সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। কোনো ফিল্টারের কিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে শিক্ষার্থীরা প্রদর্শিত তারিখের ভিত্তিতে বিষয়টি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে পারবেন।

হল সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

হলের প্রতিটি ফ্লোরের প্রতিটি ফিল্টারের তথ্য দৃশ্যমান রাখার ফলে ভবিষ্যতে কিট পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন, অভিযোগ ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে হলের সেবাব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

‘শেষ সময়েও ভালো কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ও দৃশ্যমান কিছু কাজ করে যাওয়ার লক্ষ্যেই কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।