আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ১৬তম অবস্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গত ৩ নভেম্বর কিউএস কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এবারের তালিকায় এশিয়ার ২৬টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গত বছরের তুলনায় এবারের র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। আগের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ১৩২তম। এবার চার ধাপ পিছিয়ে ১৩৬তম স্থানে রয়েছে এটি। অর্থাৎ দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলেও এশিয়ার সামগ্রিক অবস্থানে কিছুটা পিছিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১৪৯তম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) রয়েছে ১৭৯তম স্থানে।
এবারের তালিকায় বাংলাদেশের মোট ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে কিউএস বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক সুনাম, নিয়োগকর্তাদের কাছে সুনাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত। এসব সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক অর্জন। তবে এশিয়ার র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা নয়, বরং গবেষণার পরিবেশ, শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাডেমিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…