ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স (আইএএসডিএস)-এর অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান খান এবং একই ইনস্টিটিউটের পাঁচ শিক্ষার্থী জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ISCB–GMDS 2026 আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।

অসাধারণ গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁরা এসব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন বর্তমানে আইএএসডিএসে অধ্যয়নরত এবং দুজন সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের অধিকাংশ গবেষণাকর্মের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান খান।

জার্মানির ফ্রাইবুর্গে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় International Society for Clinical Biostatistics (ISCB)-এর ৪৭তম বার্ষিক সম্মেলন এবং German Association for Medical Informatics, Biometry and Epidemiology (GMDS)-এর ৭১তম বার্ষিক সম্মেলনের যৌথ আয়োজন ISCB–GMDS 2026। দীর্ঘ ঐতিহ্যসম্পন্ন এ দুই আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠনের যৌথ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী অংশ নেন।

নাসরিন সুলতানার মর্যাদাপূর্ণ STCA অ্যাওয়ার্ড

সম্মেলনে মর্যাদাপূর্ণ ISCB Student Conference Award (STCA) লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএএসডিএসের পিএইচডি গবেষক নাসরিন সুলতানা। বিশ্বের মাত্র ছয়জন তরুণ গবেষককে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

নাসরিন সুলতানার গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএএসডিএসের অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান খান এবং সহ-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. মওদুদ আলম।

তাঁর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত গবেষণার শিরোনাম— “A Copula-Based Semi-Competing Risks Model for Recurrent and Terminal Events in Presence of Cure Fraction and Its Efficient Estimation via Stochastic Optimization.”

CASP অ্যাওয়ার্ড পেলেন আরও পাঁচজন

এ ছাড়া Conference Attendance Support Program (CASP) অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান খানসহ আইএএসডিএসের আরও চার গবেষক। বিশ্বব্যাপী মাত্র ১৬ জন গবেষককে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএএসডিএসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন—অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান খান, তাঁর গবেষণা দলের মো. মনোয়ার হোসাইন ও মাহারুন নাহার জুঁই এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা মো. হাসিবুল ইসলাম জিতু ও মালিহা বিনতে আলাউদ্দিন।

উভয় অ্যাওয়ার্ডের আওতায় প্রত্যেক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তের সম্মেলন নিবন্ধন, আবাসন, কনফারেন্স কোর্স, বিমান টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় সম্মেলন কর্তৃপক্ষ বহন করে।

অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত দুই শিক্ষার্থী সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্য তিনজন সম্মেলনে তাঁদের নিজ নিজ গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

আধুনিক গবেষণায় আইএএসডিএসের অংশগ্রহণ

সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএএসডিএসের ছয় গবেষক Small Area Estimation, Survival and Competing Risks Analysis, Spatial Modelling, Causal Inference, High-dimensional Variable Selection এবং Machine Learning-এর মতো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন।

গবেষণাগুলোতে বাংলাদেশের ছোট এলাকার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিরূপণ, উচ্চমাত্রিক তথ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভেরিয়েবল নির্বাচন, স্থানভিত্তিক প্রভাব বিশ্লেষণ, কারণ-ফলাফল সম্পর্ক নির্ণয় এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি বিশ্লেষণে আধুনিক পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স পদ্ধতির প্রয়োগ তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে আইএএসডিএসের গবেষকরা তাঁদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল Biomedical AI

“Big Data. Small Data. Your Data. – Transitions in the Age of Biomedical AI” প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সের দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় নতুন পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি, মডেলিং এবং AI, Big Data ও Small Data বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা ও ধারণা বিনিময় করেন।

বায়োস্ট্যাটিস্টিকস, এপিডেমিওলজি, মেডিকেল ইনফরমেটিকস, বায়োইনফরমেটিকস, ডেটা সায়েন্স ও বায়োমেডিকেল AI-এর পাশাপাশি পরিসংখ্যান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বায়োমেডিকেল গবেষণার মধ্যে আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা জোরদার করাও সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএএসডিএসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একই ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক, একজন পিএইচডি গবেষক এবং চারজন তরুণ গবেষকের এমন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও গবেষণা সহায়তা অর্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। এটি বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

উপাচার্য আরও বলেন, Biomedical AI ও Data Science বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধরন দ্রুত পরিবর্তন করছে। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে। এটি গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা-সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।