ঢাকা- গানের সম্রাট, বিচার গানের প্রবর্তক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরমি সাধক আবদুল হালিম বয়াতির ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হালিম বয়াতি স্মরণোৎসব-২০২৬’। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হারিকেন’-এর উদ্যোগে এ আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট গবেষক, লেখক, বাউল শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্ব
অনুষ্ঠানের শুরুতে আবদুল হালিম বয়াতির বর্ণাঢ্য জীবন, সংগীতসাধনা এবং লোকসাহিত্যে তাঁর অবদানের ওপর আলোকপাত করেন দেশের বরেণ্য গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা।
- আলোচকবৃন্দ: অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে অংশ নেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও গবেষক নাসির আলী মামুন, লেখক ও গবেষক শফিকুর রহমান চৌধুরী, ড. তপন বাগচী এবং ড. সাইমন জাকারিয়া।
- স্মৃতিচারণ: মরমি এই সাধকের স্মৃতিচারণ করেন তাঁর দুই শিষ্য লাল মিয়া বয়াতি ও নজরুল বয়াতি এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র নিশানে হালিম।
- এছাড়া গুণী এই শিল্পীকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়।
২২ জন শিল্পীর কণ্ঠে বাউল গানের আসর
স্মরণোৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য সংগীতানুষ্ঠান। এক মঞ্চে দেশের খ্যাতনামা প্রায় দুই ডজন বাউল ও লোকশিল্পী হালিম বয়াতির জনপ্রিয় ও দর্শনীয় গানগুলো পরিবেশন করেন।
সংগীত পরিবেশন করেন: আলেয়া বেগম, ফকির আবুল সরকার, লতা দেওয়ান, রুমা সরকার, মুক্তা সরকার, সৈয়দ আশিকুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মোহাম্মদ শিপন, মারুফ মৃন্ময়, খোকন চিশতি, সোহাগ প্রামাণিক, জয়িতা অর্পা, সানজিদা প্রমি, ইমরান হোসাইন, অভিবাদন দাস, নবীন কিশোর গোস্বামী, নাজমূল সরকার নিহাত, রহমান জনি, মনিরুজ্জামান খান ও মাহাবুব খালাসী।
যন্ত্রসংগীতে যারা ছিলেন
আয়োজনটিকে সুরের জাদুতে মুখরিত করতে যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন একদল দক্ষ ও পরিচিত সংগীতশিল্পী:
- হারমোনিয়াম: আলম বয়াতি
- ঢোল: মো. শহিদ ও রনি দেওয়ান
- বাঁশি: কানন মোল্লা ও আকিফ আল জামি
- ব্যান্ড্রো: ওবায়দুর রুশাদ
- থমক: সৌরভ আকন্দ
- গিটার: অভিষেক প্রায় অর্চন, অনিন্দ্য বিশ্বাস ও জামিল হোসেন সিয়াম
- করতাল: সৌমিক বাগচী
আবদুল হালিম বয়াতির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯২৯ সালের ৩০ মে মাদারীপুরের শিবচরে জন্মগ্রহণ করা আবদুল হালিম বয়াতি মাত্র সাত বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন। লোকসংগীতে ‘বিচার গান’ ধারার প্রবর্তক এই সাধক তাঁর দীর্ঘ জীবনে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গান রচনা করেছেন, যা ‘হালিম সংগীত’ নামে সমাদৃত। দেহতত্ত্ব, শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত ও দেশাত্মবোধক গানে তাঁর ছিল অসামান্য দখল। সংগীতচর্চার পাশাপাশি তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০১ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ও কবি জসীমউদ্দীন গবেষক স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি মহাপ্রয়াণ ঘটে।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে এই মরমি সাধকের সৃষ্টি ও দর্শনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আয়োজক সংগঠন হারিকেন এই স্মরণোৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…