ঢাকা - উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) গেট-টুগেদার ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
দেশের বিচার ব্যবস্থার সুদৃঢ় ঐতিহ্য ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার লক্ষ্যে "One Judiciary, One Family, Always" মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বহুধাপের পরীক্ষা (১০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রাথমিক পরীক্ষা, ১,০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা) অতিক্রম করে উত্তীর্ণ সহকারী বিচারকদের সম্মান জানাতে এবং তাদের পেশাগত বন্ধন সুসংহত করতেই এই মিলনমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইন বিভাগ প্রজ্ঞাপন ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিচারকদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কিছু মুহূর্তের আনন্দ ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বেলা ৩:০০ টা থেকে রাত ৯:৩০ টা পর্যন্ত ধারাবাহিক বেশ কিছু আনন্দময় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
বিস্তারিত অনুষ্ঠানসূচি ও কার্যক্রম:
-
স্বাগত পর্ব ও কুশল বিনিময় (বিকেল ৩:০০ - ৪:৩০): বেলা ৩:০০ টায় আগত বিচারক ও অতিথিদের অভ্যর্থনা এবং স্ন্যাক্স পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বিচারকরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্মারক ফটো সেশনে অংশ নেন।
-
আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ (বিকেল ৪:৩০ - সন্ধ্যা ৬:০০): আইন বিভাগের শিক্ষক, জ্যেষ্ঠ বিচারক ও আমন্ত্রিত গুণী ব্যক্তিরা আলোচনা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইন পেশার মর্যাদা পুনরুদ্ধারে নতুন প্রজন্মের বিচারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
-
কেক কাটা ও শুভকামনা (সন্ধ্যা ৬:০০ - ৬:৩০): জুডিশিয়াল সার্ভিস পরিবারের মেলবন্ধন উদ্যাপনে আইন বিভাগ প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে বিশেষ কেক কাটা হয়।
-
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা (সন্ধ্যা ৬:৩০ - রাত ৭:৩০): সন্ধ্যায় বিচারকদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশনের মাধ্যমে বিচারকগণ তাদের সুপ্ত মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
-
র্যাফেল ড্র ও উপহার প্রদান (রাত ৭:৩০ - ৮:৩০): অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় লটারি ড্র। পাশাপাশি উপস্থিত প্রতিটি বিচারকের হাতে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়।
-
ইনডোর গেমস ও নৈশভোজ (রাত ৮:৩০ - ৯:৩০): দিনের শেষভাগে হালকা ইনডোর গেমস ও এক প্রীতি নৈশভোজের (Dinner) মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
১৮তম বিজেএস নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্যাবলি:
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC): সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রণীত ২০০৭ সালের বিধিমালা অনুযায়ী গঠিত বিজেএসসি দেশের অধস্তন আদালতের বিচারক (সহকারী বিচারক) বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে।
নিয়োগের ধাপসমূহ:
১. প্রাথমিক পরীক্ষা (MCQ):
১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।
২. লিখিত পরীক্ষা:
মোট ১০টি পত্রে ১,০০০ নম্বরের পরীক্ষা (সাধারণ বিষয় ৪০০, আইন বিষয়ক ৪০০ এবং ঐচ্ছিক বিষয় ২০০)।
৩. মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
১০০ নম্বরের ভাইভা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক শারীরিক যোগ্যতা যাচাই।
এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিচারকদের উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ ও বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় পরিবারের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন আরও জোরদার হলো বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য
লোড হচ্ছে…