‘উন্নত প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২৪তম আন্তর্জাতিক দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। শুধু গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়। এ কাজে তরুণ গবেষকদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, দেশের নদ-নদী, জলাভূমি, বনভূমি, পাহাড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বিপুল জীববৈচিত্র্য রয়েছে। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এ জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। রিমোট সেন্সিং, জিআইএস, আণবিক কৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তি জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যথাযথ পরিবেশগত জ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ গবেষকদের নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি গত ৯ মে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে ওই অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন স্বাগতা দাস গুপ্তা দিপা, নিলয় পাল, ইমাম মেহেদী হাসান ও রফিকুল ইসলাম।