ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম।

অনুষ্ঠানে নবীনবরণ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শারমিন মূসা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আশিকুর রহমান সমী বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম, ঐতিহ্য ও শিক্ষা-গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাদিয়া আক্তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুন নাহার ঝিনু ও অনিকা তাবাসসুম।

‘শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হতে হবে’

নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, নিয়মিত পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্যচর্চাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।

দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে কেবল একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে মেধাকে কাজে লাগাতে হবে’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্য ধারণ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু ক্যারিয়ার গঠন করলেই হবে না; দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব ও উন্নয়নে নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্য করে তুলবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।