৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৮তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নাম না আসা শতাধিক প্রার্থী দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন রার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন বিসিএসের গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা তাদের নিয়োগ আটকে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
প্রার্থীদের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অস্পষ্টতা, পরস্পরবিরোধী তথ্য, গুজব এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের কারণে তাদের অনেকের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করেও তারা চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৩তম বিসিএসের প্রার্থী কাঞ্জিলাল রায় জীবন বলেন, দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছরের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৪৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ২ হাজার ৬৪ জনের নামে গেজেট প্রকাশিত হলেও পরে সেটি বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ মে প্রকাশিত সম্পূরক গেজেটে আগের তালিকায় থাকা ৬৫ জনের নাম বাদ পড়ে বলে জানান তিনি।
প্রার্থীদের দাবি, বাদ পড়া অনেকের পুলিশ ও প্রশাসনিক যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এরপরও তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যার কথা জানান প্রার্থীরা। তাদের দাবি, যাচাইসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ বিসিএসের ২০ জন প্রার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়াদের মধ্যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া একজন প্রার্থীও রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে চিকিৎসকদের জন্য অনুষ্ঠিত ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের গেজেট থেকেও ২৩ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে জানান তারা। তাদের মধ্যে একই মেডিকেল কলেজের ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, “কোনো অপরাধ না করে আমাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়।”
শফিউল ইসলাম আরও বলেন, সম্প্রতি ৪৯তম বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যাচাইয়ের বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমাধান এসেছে। একইভাবে ৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৮তম বিসিএসের গেজেটবঞ্চিতদের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রার্থীদের ভাষ্য, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগ না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অনেকে চাকরিতে যোগদানের প্রত্যাশায় পূর্বের কর্মসংস্থান ছেড়েছেন বা অন্যান্য সুযোগ হারিয়েছেন বলেও জানান তারা।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ এবং চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা।