আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের শিক্ষার্থী উসামা ও দুর্জয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবন ‘AtomAI’ যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য Consumer Electronics Show (CES) 2027-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
তরুণ দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণার সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁদের তৈরি AtomAI বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সামনে নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
CES বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিবিষয়ক আয়োজন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকেরা তাঁদের নতুন প্রযুক্তি, পণ্য ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, স্মার্ট ডিভাইস, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নানা উদ্ভাবন এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৭ যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে CES 2027। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ এ মঞ্চে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবনকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করার সুযোগ পাবেন উসামা ও দুর্জয়।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি আয়োজনে নির্বাচিত হওয়া দুই শিক্ষার্থীর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁদের এ সাফল্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণ উদ্ভাবকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও গবেষণার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, শিল্পপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমন সময়ে দেশীয় শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে।
উসামা ও দুর্জয়ের AtomAI-কে ঘিরে এখন নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁদের উদ্ভাবন কীভাবে উপস্থাপিত হয় এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা কতটা বিস্তৃত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…