ক্যাম্পাসে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও ডর্প (DORP)-এর যৌথ উদ্যোগে শহিদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কলা ভবনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। সভায় ডর্পের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজ। আলোচনায় অংশ নেন সিটিএফকে বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম মিয়া এবং ডর্পের উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. আজহার আলী তালুকদার। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তামাকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তামাকমুক্ত ক্যাম্পাসের উদ্যোগকে শুধু আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোর বিভিন্ন দোকানে তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা কার্যকরভাবে নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদন বা অনুমতির মাধ্যমে তামাকজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তামাকবিরোধী লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে তামাক ও ধূমপানের ব্যবহার কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনা দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান। সভায় তামাক ও ধূমপানের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি, তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান, ক্যাম্পাসে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা। তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।