বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা আর নানা ব্যস্ততার মধ্যে প্রতিদিনের খাবার শিক্ষার্থীদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে হলের ক্যানটিন শুধু খাবারের জায়গা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু সেই খাবার কতটা সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও পুষ্টিকর—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
সীমিত বাজেটে মাসের খরচ সামলাতে হয় অনেক শিক্ষার্থীকে। কারও খরচ আসে পরিবার থেকে, কেউ আবার টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজের আয়ে নিজের ব্যয় মেটান। তাঁদের জন্য প্রতিদিনের খাবারের খরচ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে খাবারের দাম, পরিমাণ ও মানের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ও রান্নার খরচ ক্যানটিন পরিচালনায় প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সাশ্রয়ী মূল্যে পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, হলের ক্যানটিনে শিক্ষার্থীরা যে দামে খাবার কিনছেন, সেই তুলনায় খাবারের পরিমাণ, মান ও পুষ্টিগুণ কতটা সন্তোষজনক?
খাবারের স্বাদ ও পরিমাণের পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার, খাবার সংরক্ষণ এবং পরিবেশনের স্বাস্থ্যবিধিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আবাসিক শিক্ষার্থীদের অনেকে নিয়মিত হলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি থাকলে তা তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে হলভেদে খাবারের দাম ও মানের তুলনা, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং ক্যানটিন পরিচালকদের বক্তব্য সামনে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাবারের মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে রাখা, নিয়মিত মান যাচাই এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে জবাবদিহি বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক জীবনে খাবার কোনো বিলাসিতা নয়; এটি সুস্থ থাকা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মৌলিক প্রয়োজন। তাই শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের মধ্যে খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর মান, পরিমাণ ও পুষ্টিগুণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
দিন শেষে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা খুবই সাধারণ—সাধ্যের মধ্যে এমন খাবার, যা পেটও ভরাবে, স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেবে।
মন্তব্য
মন্তব্য করতে প্রবেশ করতে হবে।
লোড হচ্ছে…