ঢাকা, বাংলাদেশ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আবারও তার মুকুটে যুক্ত করেছে এক নতুন ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ শিক্ষাবর্ষের অসাধারণ ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রকাশিত মর্যাদাপূর্ণ 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক' (Prime Minister Gold Medal) এর চূড়ান্ত তালিকায় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশজুড়ে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বমোট ৩২ জন মেধাবী শিক্ষার্থী এই অনন্য সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন। এই যুগান্তকারী অর্জন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটেই নতুন পালক যুক্ত করেনি, বরং প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক উৎকর্ষ, বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব এবং অতুলনীয় একাডেমিক কাঠামোর অবিচল ধারাবাহিকতারই এক ভাস্বর প্রমাণ।
ইউজিসির স্বর্ণপদক মূল্যায়ন ও শীর্ষস্থান অর্জনের অন্তরালের তাৎপর্য :
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, একাগ্রতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা জীবনের অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক প্রদান করে থাকে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পুরস্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এবারের এই দীর্ঘ ও কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দেশের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থী শীর্ষস্থান দখল করায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, ঢাবি তার শিক্ষা কার্যক্রমের মান ধরে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে আজও আপসহীন ও অপ্রতিরোধ্য। কলা, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অনুষদের এই কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অর্জন সমগ্র জাতির জন্য এক পরম গৌরবের বিষয়।
উপাচার্যের অভিনন্দন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত সকল কৃতি শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর এক বাণীতে উল্লেখ করেন, "আমাদের এই কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং মেধের স্বাক্ষর রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রেখেছে। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণালব্ধ মেধার সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে এবং বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকরী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মেধাবী তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সেশনভিত্তিক কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ তালিকা :
একাডেমিক উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌঁছে যে ৩২ জন মেধাবী মুখ এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান অর্জন করেছেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ ও সেশনভিত্তিক তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:
🗓️ শিক্ষাবর্ষ ২০১৯
১. মুহি উদ্দিন - আরবি বিভাগ ২. মো. মুদ্দাসির হোসেন আকিব - পরিসংখ্যান বিভাগ ৩. আব্দুর রহমান মজুমদার - আইন বিভাগ ৪. মো. আকিদুর রহমান - অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৫. শেখ আতিয়া ইসলাম - অর্থনীতি বিভাগ ৬. ফারিয়া তাসনিম - ফার্মেসি বিভাগ ৭. স্বপ্নিল সায়ন সাহা - ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৮. জারিন তাসনিম - ওশেনোগ্রাফি বিভাগ ৯. শায়ন শাহরিয়ার - জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ ১০. ইশিতা সারমিন সায়মা - হিস্ট্রি অব আর্ট বিভাগ ১১. দেবলীনা সরকার মেধা - মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগ
🗓️ শিক্ষাবর্ষ ২০২০
১২. আব্দুল্লাহ মাহমুদ নাজীব - আরবি বিভাগ ১৩. তাহসিন লুবাবা - আইন বিভাগ ১৪. মো. আসিফুল ইসলাম - অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ১৫. মারুফ হাসান রুমি - লোক প্রশাসন বিভাগ ১৬. নাজিফা তাবাসসুম - ফার্মেসি বিভাগ ১৭. মো. তানভীর আলম - কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১৮. মোসা. তানিয়া আলিম শম্পা - ওশেনোগ্রাফি বিভাগ ১৯. শেখ সুনজিদ আহমেদ - বোটানি বিভাগ ২০. এমরান হাসাম - গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ২১. মাইশা মালিহা - মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগ
🗓️ শিক্ষাবর্ষ ২০২১
২২. জবা রানী বিশ্বাস - নৃত্যকলা বিভাগ ২৩. সাদিয়া আনজুম জুমানা - ফলিত গণিত বিভাগ ২৪. রুবাইয়াত হাসান সাওয়ান - আইন বিভাগ ২৫. বিলার হোসেন - ফিন্যান্স বিভাগ ২৬. নৌশীন শর্মিলা ঋতু - ক্রিমিনোলজি বিভাগ ২৭. রাশ্মিয়া নার্গিস রেইদা - ফার্মেসি বিভাগ ২৮. ফারশাদ রেজা - নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২৯. মো. মিনহাজুল ইসলাম - ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৩০. সামায়েতা সরকার তুলি - জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ ৩১. জাহিদুল ইসলাম - হিস্ট্রি অব আর্ট বিভাগ ৩২. কাজী মো. শাইমুল রেজা - মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগ
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু দেশীয় পরিসরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ল্যাব এবং বৈশ্বিক কর্পোরেট অঙ্গনেও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রাপ্তি এই মেধাবী তরুণদের একাডেমিক যাত্রার একটি মাইলফলক মাত্র। আধুনিক বিশ্বের চ্যালঞ্জ মোকাবিলায় এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। ঢাবির এই কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও মননশীলতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে , এটাই সমগ্র জাতির প্রত্যাশা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা বিশ্বমঞ্চে ঢাবির সুনাম আরও উজ্জ্বল করুক , এই চিরন্তন শুভকামনা ও নিরন্তর ভালোবাসা রইল।
মন্তব্য
লোড হচ্ছে…