ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিন ও খাবার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খাবারের মান, পুষ্টিগুণ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু শিক্ষার্থী নিজেরাই বাজার করা, রান্নার উপকরণ কেনা এবং খাবার তৈরির তদারকির দায়িত্ব নিচ্ছেন। এতে নিয়মিত পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে তাঁদের।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত টাইমস অব বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের খাবার ব্যবস্থাপনার এ চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাবারের মান নিয়ে অসন্তুষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিকল্প হিসেবে নিজেদের উদ্যোগে মেসের ব্যবস্থা করছেন। এতে ভোরে বাজার করা থেকে শুরু করে রান্নার হিসাব রাখা ও খাবার তদারকির কাজও করতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলসহ কয়েকটি হলের শিক্ষার্থীরা খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাসি খাবার পরিবেশন, মাছ-মাংস রান্নার মান এবং ডাল ও সবজির গুণগত মান নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। তবে অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি হলভেদে ভিন্ন হতে পারে।

সালিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ডাইনিং বা ক্যান্টিন সুবিধা না থাকায় মেসব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেশি। সেখানে শিক্ষার্থীদের পালাক্রমে বাজার করা, টাকা সংগ্রহ ও রান্নার ব্যবস্থাপনা সামলাতে হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মতে, এসব কাজের কারণে ক্লাস ও পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে খাবারের মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমুজ্জামাদ্দে আলফাসানে জানান, হলের খাবারের মান উন্নয়নে হল প্রাধ্যক্ষ ও পুষ্টিবিদদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি হলে সরাসরি তদারকির মাধ্যমে খাবারের পুষ্টিমান বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

এ ছাড়া সাশ্রয়ী দামে খাদ্য উপকরণ সরবরাহের বিষয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা আবাসিক হল ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, খাবারের মান যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কার্যকর সমাধান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র: Times of Bangladesh, ১৬ অক্টোবর ২০২৬।