ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও যেসব প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের বিষয়ে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত এবং ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ডাকসু এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন জেলার শত শত প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবি ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে অনেক প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করে ডাকসু। ডাকসুর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে এসে একজন প্রার্থীকে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্যে রাখা তার ন্যায্য অধিকার, মেধা ও যোগ্যতার প্রতি অবহেলার শামিল। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তার সুনির্দিষ্ট, প্রমাণযোগ্য ও আইনসম্মত ভিত্তি থাকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রতিকারের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ডাকসু আরও বলেছে, রাষ্ট্রীয় চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, গোষ্ঠীগত প্রভাব কিংবা অস্পষ্ট যাচাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয় বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং নিয়োগের বিভিন্ন ধাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় ডাকসু। তাদের মতে, নিয়োগের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মানদণ্ড, নম্বর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হলে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে বৈষম্য ও পক্ষপাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ডাকসু তাদের বিবৃতিতে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগব্যবস্থায় পুরোনো বৈষম্যের পরিবর্তে নতুন কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক কাঠামো তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। ভেরিফিকেশন বা অন্য কোনো প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হলে তা বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ডাকসুর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করা এবং অন্যায্যভাবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকার দেওয়া। পাশাপাশি সরকারি চাকরির সব নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু। প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ১৫ জেলায় ৩৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য এসেছে; অন্য একটি প্রতিবেদনে অন্তত ৭০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিতদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি ডাকসুর
ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও যেসব প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের বিষয়ে
ঢা
Tanvir Khan
প্রকাশিত ২ অক্টোবর, ২০২৬
মন্তব্য
পাঠকের আলোচনা
লোড হচ্ছে…