শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস: নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ আয়োজন শুরু হয়। চিত্রপ্রদর্শনীতে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
পরে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “গত ১৭ বছরে আওয়ামী আমলে শত শত নির্যাতন ও নিপীড়ন যারা ঘটিয়েছে, সেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।”
বুয়েটে নির্যাতনের শিকার শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সকলের কথা। এবং সেই স্ফুলিঙ্গ বিশাল আকার ধারণ করে পাঁচ বছর পরে। এবং হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিল। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়—এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে।”
ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, “ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস। এই মধুর ক্যান্টিনে দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছিল। আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সিলসিলায় কথা বলেছিলেন আমাদের মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া, আল্লামা সাঈদী, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনকারীরা। এখন এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের বোঝা দরকার, আমাদের শত্রু কারা এবং মিত্র কারা।”
ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এস. এম. ফরহাদ বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছরে যত নির্যাতন হয়েছে, তার প্রাইমারি স্ট্রাকচার ছিল গণরুম ও গেস্টরুম। এবং এই গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার ছাত্রলীগ শুরু করেনি, বরং ছাত্রদল শুরু করেছিল। আবারও আমরা তাদের সেই প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে।”
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মহিউদ্দিন খান বলেন, “যারা নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের পরিকল্পনা করছে, তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ভবিষ্যৎ বরণ করে নিতে হবে। আমরা চাই, সকল ছাত্রসংগঠন একত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে নিপীড়ন, সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি সহিংসতামুক্ত ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।