ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতায় রেফারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনার পর টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, রেফারির সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড় বাছাইয়ের ভারসাম্য এবং প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ঘাটত এসব সমস্যা আগে থেকেই ছিল
শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ও পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের মধ্যকার খেলায় রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্যালারি থেকে কয়েকজন দর্শক মাঠে নেমে রেফারির ওপর হামলা করেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে তাদের বক্তব্য, শুধু তাৎক্ষণিক হামলার ঘটনা দিয়ে আন্তঃবিভাগীয় খেলায় তৈরি হওয়া সমস্যার পুরো চিত্র বোঝা যাবে না।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্তঃবিভাগীয় খেলায় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, মাঠে ভুল সিদ্ধান্ত হতেই পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, রেফারির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ উঠলে বিষয়টি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকা উচিত।
জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় নিয়ে প্রশ্ন
শিক্ষার্থীদের আরেকটি অভিযোগ আন্তঃবিভাগীয় খেলায় খেলোয়াড় নির্বাচনের ভারসাম্য নিয়ে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের গোলরক্ষক জিকো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের একটি প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় অংশ নিলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিষয়টি আগে স্পোর্টস বোর্ডের সভায় তোলা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
মাঠ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সন্তোষজনক নয়। একই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার খেলা আয়োজন করতে হচ্ছে বলেও তারা জানান।
মাঠ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য খেলাতেও উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, কোনো ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য শিক্ষার্থীদের জানানো প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্রীড়া-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পর্যাপ্তভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। বিশেষ করে আন্তঃবিভাগ ফুটবল শুরুর সভায় ক্রীড়া সম্পাদককে উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
নতুন পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়া সম্পাদককে বিভিন্ন সভায় না ডাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যের মধ্যেও অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
তাদের আরও অভিযোগ, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কাছে ডাকসু থেকে পাঠানো বিভিন্ন আবেদন কার্যকরভাবে গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুধু টুর্নামেন্ট বন্ধ নয়, স্থায়ী সমাধানের দাবি
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সহযোগিতামূলক পরিবেশে অংশ নিতে পারলেও আন্তঃবিভাগীয় খেলায় নিয়মিত উত্তেজনা তৈরি হওয়ার কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, আজকের ঘটনার জন্য যারা রেফারির ওপর হামলা করেছেন তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ জানানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, খেলোয়াড় নির্বাচনে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য এবং ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের এক প্রতিনিধি বলেন, “এটা গ্রামের কোনো খেলা নয় যে মারামারি করে জয়লাভ করতে হবে।”
তাদের আশঙ্কা, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা অন্যান্য খেলাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আরও বড় ধরনের বিরোধে রূপ নিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শাস্তির পাশাপাশি আন্তঃবিভাগীয় ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নীতিগত সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে একই ধরনের সংকট বারবার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।