ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসিমকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে পুলিশি হয়রানি, মুঠোফোন তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডাকসু।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডাকসু এ ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

ডাকসুর বিবৃতি অনুযায়ী, প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের দাবি আদায়ে মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে ফুটপাতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে সেখানে উপস্থিত হন ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসিম।

ডাকসুর দাবি, সেখানে তাঁর পরিচয় জানার পরও তাঁকে হয়রানিমূলকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করার পর উপস্থিত মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে ‘কালো শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুমকি দেন।

ডাকসু বলছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংহতি জানানো এবং নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগের কারণে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণকে ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে ডাকসু আরও অভিযোগ করে, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করার নামে মুঠোফোন তল্লাশি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানির যে চর্চা ছিল, বর্তমান সময়ে তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিসর ও মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করার পাশাপাশি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে ডাকসু বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে কাউকে তকমা দেওয়া, ব্যক্তিগত মুঠোফোন তল্লাশি করা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশিত নয়।

এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগবঞ্চিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে ডাকসু।