ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পুকুর থেকে মাছ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে হল সংসদ। মাছ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব হল প্রশাসনের বলে জানিয়েছে সংসদ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে হল সংসদ কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং মাছ উত্তোলনের কার্যক্রমেও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হল সংসদ পুকুর থেকে মাছ উত্তোলনের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। এতে বলা হয়, মাছ উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ ও হল প্রশাসনের মধ্যে কোনো যৌথ আলোচনা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল সংসদের ভিপি ও জিএসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে হল সংসদ জানায়, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছ উত্তোলনের বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এক দিনের আয়োজন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয়োজনটিকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার সুযোগ ছিল বলে মনে করে হল সংসদ।

তবে মাছ উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। হল সংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আয়োজনটি সম্পন্ন করা হলে তা আরও গ্রহণযোগ্য হতো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় হল সংসদের ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হলের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত বিবেচনার বিষয়টিও উঠে আসে। তবে মাছ উত্তোলনের আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করার জন্য কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে হল প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন।

হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এক দিনের আয়োজন করা হলে তা শিক্ষার্থীদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হতে পারত। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক তৈরির আশঙ্কা ছিল। এ ছাড়া পুকুরে বর্তমানে পর্যাপ্ত মাছ না থাকা এবং নতুন করে মাছের পোনা ছাড়ার পর বড় মাছের পোনা খেয়ে ফেলার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাছ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হল প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন।

হল সংসদ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, পুকুর থেকে মাছ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব হল প্রশাসনের। এ বিষয়ে হল সংসদ কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। মাছ উত্তোলনের কার্যক্রমেও হল সংসদ সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে হল সংসদের পক্ষ থেকে কিছু মতামত ও পরামর্শ দেওয়া হলেও সেগুলো হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবেচনা করা হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতির শেষাংশে হল সংসদ জানায়, হলের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, মতামত ও অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই হল সংসদ ভবিষ্যতেও কাজ করবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদ।