ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘গ্লোবাল সাউথ-জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ’ (GS-JTI) বিষয়ক অন-ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানের আটটি প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে প্রযুক্তিভিত্তিক ইন্টার্নশিপ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারণা লাভ করেন।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে GS-JTI সচিবালয়, ডেলয়েট তোহমাতসু ভেঞ্চার সাপোর্ট এবং কোয়েই রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর লক্ষ্য ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদীয়মান প্রযুক্তি-প্রতিভাদের সঙ্গে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির স্বাগত বক্তব্য দেন। GS-JTI সচিবালয়ের মি. তাতসুয়া ইয়ামাদা কর্মসূচির সার্বিক পরিচিতি এবং জাপানে কাজের সুযোগ ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ।

ইভেন্টে অংশ নেওয়া জাপানের আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যাডোরো ইনকর্পোরেটেড, এ-ওয়ান রোড কোং লিমিটেড, অ্যাস্টার কোং লিমিটেড, এডব্লিউএল ইনকর্পোরেটেড, ক্যাপার ইনকর্পোরেটেড, গ্রিন কার্বন ইনকর্পোরেটেড, জাপান সুপারকন্ডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইনকর্পোরেটেড এবং নোয়াহলজি কোং লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে এআই অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, দুর্যোগ সহনশীলতা, এজ এআই ও কম্পিউটার ভিশন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল প্ল্যাটফর্ম, কার্বন প্রকল্প ও টেকসই উন্নয়ন, সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তি এবং জাহাজ নির্মাণে এআই-এর ব্যবহার।

অনুষ্ঠানে জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি ইন্টার্নশিপের ভূমিকা, আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া এবং জাপানের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব শিল্পপ্রকল্পে প্রয়োগ, পেশাগত যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রোগ্রামিং, বিশ্লেষণাত্মক ও প্রকৌশল দক্ষতাসম্পন্ন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা সম্পর্কে জানার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে সংযোগ জোরদার করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্তমান চাকরিবাজারের দক্ষতার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ার প্রস্তুতির সুযোগ পান। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়।