ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি-মৈত্রী রুটের শাটলের সঙ্গে চারুকলা রুট যুক্ত করার পর শাটল সেবায় ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় ধরে শাটলের জন্য অপেক্ষা, দুই শাটলের মধ্যবর্তী ব্যবধান এবং আসন সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৈত্রী ও সমাজকল্যাণ এলাকার শিক্ষার্থীরা।

গত ৩ অক্টোবর ‘DU Shuttle Update - GFFB’ নামে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাটল পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রক্টরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাঁর নির্দেশনার আলোকে টিএসসি-মৈত্রী রুটের সঙ্গে চারুকলা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন ব্যবস্থায় চারুকলা থেকে টিএসসি, ভিসি চত্বর, তোরণ, নীলক্ষেত হয়ে শাহনেওয়াজ হোস্টেল, মৈত্রী ও সমাজকল্যাণ পর্যন্ত শাটল চলাচল করছে।

GFFB-এর ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, সমাজকল্যাণ ও মৈত্রী এলাকার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—ভিসি চত্বরে শাটলে আসন পাওয়া যায় না। আসন পূর্ণ থাকলে শাটল থামলেও বহিরাগত যাত্রীদের নামানোর সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়তেন। এ সমস্যা সমাধানে ভিসি চত্বরে সমাজকল্যাণ-মৈত্রীগামী শাটলের জন্য নির্ধারিত স্টপেজ করা হয়েছে।

পোস্ট অনুযায়ী, নির্ধারিত স্টপেজে সমাজকল্যাণ-মৈত্রী রুটের সব শাটল আসন পূর্ণ থাকলেও থামবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শাটল থামার পর বহিরাগত যাত্রী যাচাই করে নামিয়ে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে নতুন রুট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

শিক্ষার্থী মুমতাহিমা চাদনী এক পোস্টে অভিযোগ করেন, মৈত্রী রুটের শাটল আগে থেকেই নিউমার্কেট-গাউছিয়া এলাকার যানজট অতিক্রম করে চলাচল করায় সময় বেশি লাগে। এর সঙ্গে চারুকলা যুক্ত হওয়ায় একই শাটলকে দুই দিকের যানজটপূর্ণ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাটলগুলোর মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই সময়ের মধ্যে ভিসি চত্বরে ১৬ থেকে ২০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী অপেক্ষা করলেও পরবর্তী শাটল রোকেয়া হল থেকেই প্রায় পূর্ণ হয়ে আসছে। ফলে ভিসি চত্বরে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই আসন পাচ্ছেন না।

মুমতাহিমা চাদনী বলেন, চারুকলার জন্য শাটল চালুর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি নেই। তবে মৈত্রী-সমাজকল্যাণ রুটের বিদ্যমান শাটলের সঙ্গে চারুকলা যুক্ত করার পরিবর্তে প্রয়োজনে চারুকলার জন্য আলাদা শাটল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি শাটলকে নিউমার্কেট-গাউছিয়া এবং চারুকলা-শাহবাগমুখী দুই দিকের যানজটপূর্ণ পথ অতিক্রম করানোর ফলে মৈত্রী ও সমাজকল্যাণ এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, চারুকলা রুটে শাটল সেবা চালু রাখার পাশাপাশি মৈত্রী ও সমাজকল্যাণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক শাটল বা বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা হোক। এতে চারুকলার শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৈত্রী-সমাজকল্যাণ রুটের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আসন সংকটও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।