ভিটেবাড়ি ও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নিয়োগ জটিলতার অবসান হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

মিশন আচার্যের নিয়োগের এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তিনটি পক্ষ—প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রথম আলো।

প্রথমে মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো। প্রতিবেদনে উঠে আসে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিজস্ব বসতভিটা ও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাঁর নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। (Prothom Alo)

প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের। তিনি মিশন আচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আনেন। পরে ৪ অক্টোবর মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। এ সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটারও দেন। (Prothom Alo)

সাক্ষাতের পর শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন। নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী আবাসন না থাকার কোনো বিধান রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান তিনি। (Ajkerpatrika)

এরপর ৫ অক্টোবর ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে মিশন আচার্যের নিয়োগ চূড়ান্ত করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও তাঁর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। (Prothom Alo)

নিয়োগ পাওয়ার পর মিশন আচার্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও রাশেদ খাঁনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তাঁর পাশে দাঁড়ানো গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। (Prothom Alo)

অর্থাৎ, মিশন আচার্যের ঘটনাটি সামনে আনা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়া—পুরো প্রক্রিয়ায় প্রথম আলোর প্রতিবেদন, রাশেদ খাঁনের উদ্যোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে।