সৃষ্টিশীলতার জাদুকর শিবলী রুবায়াতুল ইসলাম

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে আবারো নির্বাচিত হলেন আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতুল ইসলাম। অনাবিল আনন্দের স্রোতে মাতোয়ারা তাঁর হাজারো শুভাকাঙ্ক্ষী। সহস্র প্রাণের উল্লাসে উদ্বেলিত যেন পুরো ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। অধ্যাপক শিবলীর সান্নিধ্য পাওয়া সকল শিক্ষার্থী ও সহকর্মী তার এই অসামান্য বিজয়ী তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এতটুকু কার্পণ্য করেন নি। আর, করবেনই বা কেন? তার মতন প্রাণময়, প্রফুল্লচিত্ত মানুষ আর ক’জনইবা হয়! তাঁর প্রত্যেক সহকর্মী কিংবা বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে যেন ভীষণ আত্নিকভাবে মিশে যান। এমন হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলেন মুহূর্তেই, মুহূর্তেই মানুষকে আপন করে নেন। আমাদের আত্নার গভীরে বসত করা এমনই একজন মানুষ আমাদের শিবলী রুবায়াতুল ইসলাম।

10599579_10203961904140311_5300606287741432537_n

তাঁর অগাধ ক্লান্তিহীন পরিশ্রমেরই ফসল ব্যবসায় শিক্ষা অনুশদের বর্তমান বাহ্যিক চেহারা। বলতে অনেকটা তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগেই স্থাপিত হয় এফবিএস’র ফুড কোর্টটি। এ নিয়ে নিন্দুকদের সমালোচনাতেও যে পড়তে হয় নি তা উহ্য করছি না। কিন্তু, তাও তিনি সামলেছেন যথেষ্ট বলিষ্ঠতার ও সুক্ষতার সাথে। খুঁতসন্ধানীদের জবাব দিয়েছেন বুদ্ধির বাণে। নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বদা সক্রিয় থেকে অনুষদের প্রতিটি বিষয় সকল ফলোয়ারের সাথে ভাগাভাগি করেছেন। আধুনিক মননসমৃদ্ধ শিবলী স্যার যোগাযোগের সর্বাধুনিক  প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সংযুক্ত থেকেছেন সবার সঙ্গে। অনুষদ প্রাঙ্গনের সৌন্দর্যবর্ধন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মেরামতনিশ্চিত করেছেন। মেয়েদের জন্যে কমনরুম আছে কিন্ত ছেলেদের জন্যে কই? এমন দাবি অনুষদের ছাত্ররা করলে স্যার প্রতিশ্রুতি দেন ছেলেদের জন্যে আলাদা কমনরুম প্রতিষ্ঠার। যেই কথা সেই কাজ শুধু কমনরুম-ই না সেই সাথে মিলল আইসক্রিম পার্লারও। আবার দাবি পেশ করল মেয়েরা “ওদের কমন অত চাকচিক্যময় হলে আমাদেরটা নয় কেন?” আবার প্রতিশ্রুতি আর তারপর তার বিলম্বহীন বাস্তবায়ন। আর কিছুদিনের মধ্যেই এফবিএসে যুক্ত হবে মেয়েদের আধুনিকায়িত কমনরুম আর আধুনিক সুবিধা সমেত নির্মিত ই-লাইব্রেরি। আর, অনুষদের প্রতি তাঁর এই অনবদ্য অবদান, একের পর এক নতুন সৃষ্টি শিক্ষার্থীদের উপহার দেয়া সৃজনের কারিগর অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতুল ইসলাম এফবিএস’র শিক্ষার্থীদের মাঝে “সৃষ্টিশীলতার জাদুকর” অভিধাতেই পরিচিত।

শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, শিক্ষার মান সুনিশ্চিতে উল্লেখযোগ্য তাঁর ভূমিকা। বিভিন্ন নামী-দামী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর, বিদেশি যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়ন করতে পারে সে সুযোগও নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায় প্রশাসনে পিএইচডি’র সুবিধা প্রদান করতে চালু করলেন ডক্টরেট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রি। যুগোপযোগী কোর্স চালু, পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন, মেধা মূল্যায়ন পদ্ধতি মানোন্নয়ন নিশ্চিতে তাঁর উৎসাহ ও প্রচেষ্টার এতটুকু কমতি পাওয়া দুষ্কর।

স্যারের পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষদে উদযাপিত স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এছাড়া, নানা সেমিনার, ডায়লগ সেশন আয়োজন, আয়োজনে অনুপ্রেরণা প্রদান ও উপস্থিত থেকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিজনেস আইডিয়ার প্রতিযোগিতা, কেস কম্পিটিশন থেকে শুরু করে সব ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি যেমনি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডীন হিসেবে সফল, তেমনি ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং একজন স্নেহময় শিক্ষক হিসেবে। তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বের কারিশমায় মুগ্ধ করেছেন সকলকে, স্থান করে নিয়েছেন সবার হৃদয়ে। তাঁর প্রজ্ঞাছায়াতলে ঠাঁই পেয়ে আমরা নিজেদের গর্বিত জ্ঞান করি।

স্যারের নিষ্ঠাময়, সততাময় ও দায়িত্বশীলতাপূর্ণ কর্মজীবনের প্রতিটি অংশই সমদ্যুতিতে আলোকিত। তাঁর কর্মস্পৃহা, ক্লান্তিহীন পরিশ্রম আর অসামান্য মেধাশক্তির অণু সঞ্চারিত হয়েছে পুরো অনুষদে, ছড়িয়েছে এফবিএসের  ধমনীতে। ঢের মমতা আর স্নেহময়তা দিয়ে তিনি আগলে রেখেছেন এফবিএসকে। স্যারের নিবিড় প্রতিপালনে তিলে তিলে বাড়ছে এফবিএস, এগিয়ে যাচ্ছে আসমান স্পর্শের স্পর্ধায়। আমাদের প্রাণপ্রিয় শিবলী স্যার সবসময় অভিভাবক হিসেবে, আশীর্বাদদাতা হিসেবে আমাদের পাশে থাকবেন এটা অন্তরের প্রগাঢ় প্রত্যাশা। ধন্যবাদ শিবলী স্যারকে।

 

সাজিদুর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার 10884730_774090712665888_691092570_n

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better