আমার ঈদ!!!

image_217_29128

 

র কয়েকটা দিন পর ঈদ। অথচ অফিসে ছুটির নাম নাই। ওদিকে নতুন বউয়ের শপিং সংক্রান্ত ঘ্যানঘ্যানানি!

বউঃ আমি তোমার ঘরও করুম না, আর তোমার ভাতও খামু না।

আমিঃ ভাত না খাও, রুটি খাও।

বউঃ আমি তোমার ঘরেই থাকুম না।

আমিঃ ঘরে না থাকো, ছাদে থাকো।

বউঃ (মুখ ঘুরিয়ে)তোমার বাড়িতেই থাকতাম না।

আমিঃ তবে চলো দু’জনে মিল্লাই বাসা ছাড়ি;আমার শ্বশুর বাড়ি যাই…

 

তারপর, কোন কথা-বার্তা নাই। দেখলাম, আমার বউ তার নিজের শ্বশুর বাড়ি ত্যাগ কইরে লজ্জার মাথা খাইয়া আমার সাথে রাগ কইরে আমারই শ্বশুর বাড়ি গিয়া উইঠছে।

বেচারি ঠাণ্ডা মাথায় সবসময় আদায় কইরে নেয়। এইবার ঈদে নিবে না কইরেও তিনখান দামি শাড়িসহ অসাধ্য শখগুলা পুরাইছে; খালি পুরায়নি নতুন গয়না।ক্যামনে দেই, কন?

কোনোভাবে একটু সময় নিয়া গেলাম শপিংয়ে,বউয়ের এই সেই কেনাকাটা শেষে একটা দোকানে ‘শুধু শুধু অন্য দোকানে  গিয়া ঠকবেন ক্যান, এখানে আসেন’ লেখা দেইখা নিজের জন্য কিছু কেনতে সাহস পাইলাম।তারা ৭০০ ট্যাকার মাল ২০০০ ট্যাকায় ধরাইয়া দিয়া কইল,

‘আবার আইসেন’

একটা প্যান্ট ও একটা পাঞ্জাবি নিয়া ফিরবার কালে কইলাম, ‘ঈদে আপনারা কোনো ছাড় টার দিচ্ছেন না?’

: হ… এবার আমরা ‘ছাড়’ শব্দটারেই ছাড় দিছি।

 

এদিকে আমার দেশপ্রেমিক পুচকে ভাগ্নেটা আমার নতুন পাঞ্জাবিটা কেটেকুটে তরকারি বানিয়ে ফেলেছে!মনে-প্রাণে ঠাণ্ডা ধৈর্য মালিশ কইরে কইলাম,

‘পাঞ্জাবির এই হাল করেছিস ক্যানে?’

কইল, “নানা (আমার বাবা)বলেছে যুদ্ধের সময় পাঞ্জাবি বাঙ্গালিদের অনেক ক্ষতি করেছে, তাই…”

মেজাজটা ভীষণ খারাপ।ঢাকায় আর এক মুহূর্তও নয়; পা বাড়লাম সায়েদাবাদের দিকে, গ্রামে চলে যাবো ভেবে। কাল ঈদ। শেষ মুহূর্তের বাসে বাঁদরঝোলা হয়ে যেতে যেতে এক স্টেশনে বাস কিছুক্ষণের জন্য থামলো। হুড়মুড় কইরে পাবলিক টয়লেট দেইখে বসে পড়লাম।

:কেমন আছো? (পাশের টয়লেট থেকে প্রশ্ন এলো)

:জ়্বি, ভালো। (আমতা আমতা কইরে উত্তর দিলাম)

:কী করছো? (এবার ভারি লজ্জায় পইড়ে গেলাম)

:ইয়ে, ঢাকা থেইকা বাড়ি যাচ্ছি।

পাশের টয়লেট থেইকা জবাব এলো,

:হ্যালো, তোমাকে পরে ফোন দিচ্ছি, তোমাকে যা-ই জিজ্ঞাসা করি, পাশের টয়লেটের একটা বান্দর উত্তর দেয়।

খানিকটা শক খাইয়া গেলাম! তড়িঘড়ি কইরে বাসে গিয়া উঠলাম লোকটা যাতে দেখতে না পায়।

সন্ধ্যায় হুশ পেয়ে বুঝলাম আমি স্থানীয় হাতর আলীর চেম্বারে। ডা. হাতর আলী পেট ব্যাথার কিছু ঔষধ দিয়া কইলো,

:আপনার খাবার সবসময় ঢাকা রাখবেন।

:রাখা যাইবো না, আমি ঢাকার বাইরে আছি…(গরগরররর)

ঘুমের ঘোরে পাশের আওয়াজ কানে আইলো_ “মনে হয়, ডোজ একটু বেশি পড়েছে।মিয়ার এক পকেটে কিছু টাকা আছে, আরেক পকেট কাটা।“

একজনে জিজ্ঞাসা কইরলো, আপনার সঙ্গে কয়টা ব্যাগ আছিলো?

গরগরর……….।

এবার একটু জোরে কইলো, আপনার সঙ্গে কী ব্যাগ ছিল?

টি-ব্যাগ আছিলো। (গরগরররর)

পোলাপাইনের চিল্লাচিল্লিতে ঘুম থেকে হকচকিয়ে উঠে বসলাম।

‘ঈদ আমার কাকা, ঈদ আমার মামা’

ও আজ ঈদ। তাই না?

‘ভণিতা বাদ দিয়া তাড়াতাড়ি সেলামি বাইর করেন, আমগো তাড়া আছে’

প্রসঙ্গ পাল্টাতে কিঞ্চিত ধমকের সুরে কইলাম, ‘ঈদ আমার কাকা, ঈদ আমার মামা’ এইসব কী অ্যা?’

‘আরে, তুমি না আমাদের মুরুব্বি! তোমার নাম নেয়া কি ঠিক হবে?’

‘ইশ,পেকে গেছিস দেখছি!যা আমার কাছে সেলামি টেলামি নাই’। বলে ভাবতে লাগলাম, নানা ঝৈ-ঝক্কির মইধ্যে নিজের নাম যে ‘মোবারক’ সেটাও ভুলে গেলাম!

এরই ফাঁকে সর্বনাশের শেষ ঘণ্টা বাজিয়ে পকেটমারের কাটা প্যাণ্টের পকেট থেকে আমার হাতের পাঁচ, নোটগুলো নিয়া ছোকড়া্রা দিল ভোঁ দৌড়…

‘করে কী! করে কী!’ বলে তিন লাফেও নাগাল পেলাম না বাঁদরগুলোর।

কী করে বোঝাই ঐটুকুই আমার ঢাকা ফেরার শেষ তেলটুকুন!

 

কে,এম, মাসুদ রানা

ডিইউটাইমজ (DUTIMZ)

 

 

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better