ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ-পঞ্চাশের পাঁচালি

কুয়াশার চাদরকে তখনও পরাজিত করতে পারেনি ভোরের সূর্য। তাই বলে থেমে নেই তারুণ্যের আলোয় দীপ্যমান তরুণদের কর্মকান্ড। কাজের যেন শেষ নেই। সারারাত সাজিয়েছে তারা টিএসসি। উপলক্ষ একটি। একান্ন বছরে পা দিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ। ইংলেন্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ১৯০৭ ব্যাডেন পাওয়েল স্কাউটিং আন্দোলনের সূচনা করেন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক রোভার স্কাউট ইউনিট হিসেবে ষাটের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রপের কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কাউটিং কার্যক্রম শুরু হয়। শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করা এই গ্রুপ আজ অর্জনের আলোয় উদ্ভাসিত। ইতোমধ্যে ২১জন রোভার স্কাউট স্কাউটিংয়ের সর্বোচ্চ পদক রাষ্ট্রপতি রোভার স্কাউট পদক লাভ করে। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার রোভার স্কাউট স্কাউটিংয়ের মূলমন্ত্র ‘সেবা’-এর দীক্ষা নিয়ে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত ৫০ বছর যাবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাহিরে যে সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে তা দেশে ও বিদেশে বহুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাই তো গ্রুপের ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানটি ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ উদ্যাপিত হলো সাড়ম্বরে। সকাল তখন নয়টা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হলো উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবের উদ্বোধন করেন মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ।উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব। প্রবীন স্কাউটারদের কন্ঠে অনুরণিত হয় অর্জন, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও হাসি-আনন্দের গল্প। মিলনায়তনের বহিরাঙ্গনে ছিলো প্রদর্শনী।

unnamed-3অনেক পুরোনো স্কার্ফ, ওয়াগল, ব্যাজ, অ্যাপুলেট, আলোকচিত্র, স্মারক ক্রেস্ট, দেয়ালিকা, প্রকাশনার এই দুর্লভ সংগ্রহ ছিলো দেখার মতো। টিএসসির সবুজ প্রাঙ্গনের একদিকে ছিলোতাঁবুপ্রদর্শনী। তাঁবুমনেকরিয়ে দিলোতাঁবুবাসের স্মৃতি। স্কাউটিং ও তাঁবুকেআলাদাকরাযায়না। সূর্য যখনতার শক্তি হারিয়েনিস্তেজ হয়েপড়ছিলোতখনটিএসসিরসবুজ প্রাঙ্গনে চলছিলোনবীন ও প্রবীণদেরআড্ডা। ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ ও কথোপকথনের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠলো টিএসসি প্রাঙ্গন। এক ফাঁকে কথা হলো গ্রুপের সম্পাদক ও প্রধান রোভার স্কাউট নেতা অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুবের সঙ্গে। তিনি বলেন যে দেশের স্কাউটিং আন্দোলনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভারবৃন্দ প্রতিনিয়ততাদের মেধা ও সেবাদিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। এ গ্রুপটি তৈরি করেছে একদল দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ, যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।

unnamed-5সূর্য যখন অস্তা চলে তখন শুরু হলো তাঁবুজলসা। বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মোহাবিষ্ট করে সবাইকে। অনেক রাত হয়ে গেল কিন্তু গল্প-আড্ডা-গান-স্মৃতিচারণ যেন শেষ হচ্ছেনা। এ যেন তারুণ্যের জয়যাত্রা। এ যাত্রা কখনও থামার নয়। শেষ বেলা সবার মনে হলো ব্যাডেন পাওয়েলের শেষ বাণী।‘পৃথিবীকে যেমনটি পেয়েছোতার চেয়ে একটু শ্রেষ্ঠতর রেখে যেতে চেষ্ঠা করো। তোমার মৃত্যুর পালা যখন আসবে তখন তুমি সানন্দে এ অনুভূতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারবে যে, তুমি অন্তত তোমার জীবন নষ্ঠ করোনি বরং সাধ্যমতো তার সদ্ব্যবহার করেছো’। স্কাউটরা এ অমোঘবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে উৎকর্ষের পথে।

মো.আল-আমিন
প্রাক্তন সিনিয়র রোভার মেট,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better