ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও টেলিস্কোপে আকাশ দেখার আয়োজন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিজ্ঞান প্রদর্শনী, টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ ও খালি চোখে আকাশ চেনা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি (ডিইউএসএস) এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘর।

বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেয়। অভিভাবকদের হাত ধরে আসে ছোট ছোট অনেক শিক্ষার্থীও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার তাঁর দুই ছেলেকে প্রদর্শনীটি দেখাতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন তেমন একটা হয় না। তাই সুযোগ পেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে চলে এসেছি। ওরা যেমন খুব আনন্দ পেয়েছি, আমারও খুব ভালো লেগেছে।”14915559_1432707950090213_3459208192028287923_n

 

বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে যাদুঘরের ভ্রাম্যমান মিউজু বাসের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মৌলিক  বিষয়গুলো হাতে কলমে অনুধাবন করার সুযোগ পায় দর্শনার্থীরা। প্রদর্শনীতে প্রায় দুই ডজন এক্সপেরিমেন্ট করে দেখার সুযোগ ছিল। প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ধ্রুব সরকার জানায়,“আমি ধানমণ্ডি থেকে দাদুর সংগে এখানে এসেছি। মজার মজার অনেকগুলো বিজ্ঞানের খেলা খেললাম। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি,”

সন্ধ্যার পর থেকে ছিল টেলিস্কোপে আকাশ দেখার আয়োজন। আট ইঞ্চির শক্তিশালী টেলিস্কোপটি ফোকাস করা হয় চাঁদের দিকে। আকাশ মেঘলা থাকায় মঙ্গল গ্রহ বা অন্য কোন তারামণ্ডলীর দিকে ফোকাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবুও মানুষজনের আগ্রহের কোন কমতি ছিল না। চাঁদের খাঁদ, পাথুরে জমিন দেখতে পুরো সময় ছিল লম্বা লাইন। প্রায় তিনশ মানুষ চাঁদ দেখার সুযোগ পেলেও অনেককে ফিরে যেতে হয় সময় শেষ হয়ে যাওয়ায়।

উত্তরা থেকে আকাশ দেখতে আশা কলেজ শিক্ষার্থী ওসামা শাহাদাত বলেন,“আমি জীবনে আজ প্রথম টেলিস্কোপে চাঁদ দেখলাম। এতো সুন্দর চাঁদের গায়ে যে খানাখন্দে ভরা আগেই জানতাম। তারপরও তা দেখে আমি চমকে গিয়েছি।”

এছাড়াও ছিল খালি চোখে আকাশ চেনা কার্যক্রম। আকাশ মেঘে ঢেকে থাকায় খুব বেশি তারা দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। মঙ্গল গ্রহ, অভিজিৎ, শ্রবণা, পুচ্ছ এমন সুন্দর সুন্দর নামের কতগুলো তারা দেখা যাচ্ছিল। আকাশ চেনাচ্ছিলেন ডিইউএসএস এর সদস্য ওমর ফারুক। তিনি বলেন,“আলোক দূষণের জন্য ঢাকার আকাশে খুব বেশি তারা দেখা যায় না। তারপরও নভেম্বর ডিসেম্বরে আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার থাকায় একটু অন্ধকার জায়গায় যেতে পারলে অনেক তারা দেখতে পারবেন। একটু শিখে নিলে দেখবেন আকাশটা কত চমৎকার।”

ডিইউএসএস এর মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স ও মেকাট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপার্সন লাফিফা জামাল বলেন,“আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো অনুধাবন করে বোঝার জন্য এমন আয়োজন খুব কাজে লাগে। সেজন্যই আমরা এমন আয়োজন নিয়মিত করে থাকি।”

আয়োজকরা জানান, মানুষের আগ্রহের কারণে আগামী ২২ নভেম্বর বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত আবারও একই আয়োজন করা হবে। নিয়মিত আয়োজনটি করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তারা।

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better