৩৫তম বিসিএস (পররাষ্ট্র)-এ প্রথম স্থান অধিকারী ওয়ারিসুল ইসলামের সাক্ষাৎকার

”Knowledge is what you learn for operating your life” বিসিএস প্রিপারেশন এর প্রেক্ষাপট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৩৫তম বিসিএস(পররাষ্ট্র) এ প্রথম স্থান অধিকারী ওয়ারিসুল ইসলাম। এনজয়, হ্যাভ ফান জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ওয়ারিসুল ইসলাম তার অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বর্তমানে আলোচনার তুঙ্গে। ওয়ারিসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে বিবিএ করে নেসলে,_ এর মত প্রথম সারির কর্পোরেট এবং ডেভলপমেন্ট সেক্টর এ নিজের কর্মদক্ষতা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অধ্যয়ন করছেন।অসামান্য মেধার অধিকারী, ওয়ারিসুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছেন ডিইউ টাইমজের। কথা বলেছেন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, বিসিএস এবং সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে।

ওয়ারিসুল ইসলাম, ৩৫তম বিসিএসে ১ম(পররাস্ট্র)

ওয়ারিসুল ইসলাম, ৩৫তম বিসিএসে ১ম(পররাস্ট্র)

ডিইউ টাইমজঃ প্রথমেই জানতে চাচ্ছি আপনি কেমন আছেন?
ওয়ারিসুল ইসলামঃ জ্বি, ভালো আছি।আলহামদুলিল্লাহ।

ডিইউ টাইমজঃ রেজাল্ট পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি সম্পর্কে কিছু বলেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ রেজাল্ট পাওয়ার পর অনেক এক্সইটেড ছিলাম। অনুভূতি আলহামদুলিল্লাহ্‌ অনেক ভালো।

ডিইউ টাইমজঃ আপনার ছোটবেলা কোথায়, কেমন কেটেছে এ সম্পর্কে কিছু বলেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ  মূলত আমার ছোটবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরে। আমার স্কুল ফরিদপুর জিলা স্কুল। এর আগে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ স্কুলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু, যেটা নিঃসন্দেহে ফরিদপুরের বেস্ট স্কুল ছিল। আর স্বপ্নের শুরুটাও ছিল ওখান থেকেই, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অন্যরকম স্বপ্ন দেখা, ডিবেট, রচনা প্রতিযোগিতা, মোটের উপর নিজেকে আবিষ্কার করার যে প্রয়াস, সবকিছুর শুরু অখান থেকেই।

ডিইউ টাইমজঃ সাধারনত দেখা যায় আইবিএ থেকে পড়ার পর মানুষ কর্পোরেট সেক্টরে যায়, আপনি বিসিএস এ কেন?
ওয়ারিসুল ইসলামঃ  আসলে এই ট্রেন্ডটা এখন চেঞ্জ হচ্ছে। গভর্নমেন্ট জবে আইবিএর স্টুডেন্টরা যে নেই তা কিন্তু না। বিগত ৫/৭ বছরে এই ধারাটা আরও বদলেছে।বিসিএস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস জব; আর সবচেয়ে বড় কথা হল বিসিএস সেক্টর থেকে দেশের জন্য যেভাবে কাজ করা যাবে আর অন্য কথাও অতটা পাওয়া যাবে না।

ডিইউ টাইমজঃ বিসিএস এর জন্য কিভাবে প্রিপারেশন নিয়েছেন?
ওয়ারিসুল ইসলামঃ প্রথমত বিবিএ শেষ করে ফুল টাইম চাকরি করতাম, এমবিএর ও ক্লাস থাকত সপ্তাহে চার দিন, এভাবে অফিস করে, ক্লাস করে সত্যি কথা বলতে ওরকমভাবে প্রিপারেশন নেয়ার টাইম পাইনি। অফিস, ক্লাস এর ফাঁকে নেট এ পরতাম, আসলে পুরো ব্যপারটা ছিল একটা শর্টকাট কিন্তু গঠনমূলক পদ্ধতিতে।
ডিইউ টাইমজঃ ভাইভা এবং রিটেন নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ  পড়াশুনা করতে হবে। এর চেয়ে ভাল কিছু আসলে নেই। কিন্তু তার মানে এই না যে মুখস্থ করতে হবে। রিটেন অথবা ভাইভার জন্য পৃথিবী সম্পর্কে, বাংলাদেশ সম্পরকে, চারিদিকে কি হচ্ছে সে সম্পরকে ভাল আইডিআ থাকতে হবে। একটু চোখ কান খোলা রাখা, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এইতো।
আর ভাইভার জন্য বেসিক ভাল থাকতে হবে। বিভিন্ন ক্লাব, ডিবেটিং, কমিউনিকেশন স্কিল এগুলো ভাইভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত একটা নিউজ দেখার অভ্যাস থাকলে ভাল হয়।
ডিইউ টাইমজঃ পড়াশুনার পাশাপাশি নন-ফিকশন কিংবা বাইরের বই পড়ার ক্ষেত্রে আপনার মতামত কি?
ওয়ারিসুল ইসলামঃ বাইরের বই আমি খুব কমই পড়েছি। পড়াশুনার ব্যাপারে আমি একটু ফাঁকিবাজ। জীবনে মোটামুটি দুইটা বই পরছি_ “হাজার বছর ধরে” আর “পদ্মা নদীর মাঝি”। সেটা ও একাডেমিক সিলেবাস এর খাতিরে।
আর মুভির ক্ষেত্রে আমার সাধারনত কমেডি মুভি পছন্দ।

ডিইউ টাইমজঃ আপনার আইডল কে?

ওয়ারিসুল ইসলামঃ  আমার আইডল হচ্ছেন আমার কাজিন নাফিস ভাই। উনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আইবিএ থেকে পড়েছেন। বর্তমানে একটি মালটিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করেন।

ডিইউ টাইমজঃ আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কিছু মজার স্মৃতি আমাদের সাথে যদি শেয়ার করতেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ আসলে ওইভাবে চিন্তা করলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মজার স্মৃতি অনেক। তার মধ্যে ক্যান্টিনে বসে কার্ড খেলা, পরীক্ষা খারাপ হলে পুরান ঢাকায় সেলিব্রেট করতে যাওয়া, আর এছাড়া হোস্টেল লাইফে অনেক মজা করছি।

ডিইউ টাইমজঃ আপনার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা কি?
ওয়ারিসুল ইসলামঃ নিশ্চিন্ত ঘুম। আমার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা নিশ্চিন্ত ঘুম।

ডিইউ টাইমজঃ আপানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ওয়ারিসুল ইসলামঃ আপাতত জয়েন করব ইনশাআল্লাহ্‌। এরপর ইচ্ছা আছে বাংলাদেশের বাইরে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য কিছু করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরা; সর্বোপরি বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। আমরা বাংলাদেশ কখনো মাথা নত করি না, এই মরমে কাজ করা।

ডিইউ টাইমজঃ সাধারনত দেখা যায় ক্যাডার হওয়ার পর দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যাবহারের একটা প্রবনতা সৃষ্টি হয়, এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কি?  

ওয়ারিসুল ইসলামঃ ভাল খারাপ সব জায়গায় ই আছে। আমার পরিচিত এমন অনেকজন আছেন যারা কর্মজীবন অনেক সৎ। আসলে যেকোন কিছুর ক্ষেত্রে ভাল দিকটাতে ফোকাস করতে হবে। আমাদের মধ্যা পজিটিভিটি আনতে হবে। গতানুগতিক চিন্তায়, কাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরাই আনবো।

ডিইউ টাইমজঃ যারা বিসিএস দিতে চান বা বিসিএস এ ভাল কিছু করতে চান তাদের জন্য কিছু বলেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ ব্যাক্তিবিশেষে নিজেদেরকে পারটিকুলারলি এনালাইজ করতে হবে। উইকনেস, স্ট্রেংথ এর যায়গাগুলো খুঁজে বেড় করে একটা গেম প্ল্যান করে ওই অনুযায়ী একটু একটু করে আগাতে হবে।
অনেক সময় নেটওয়ার্কিং, কমইউনিকেশন স্কিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি একটি দেশ পরিচালনা করার মত যোগ্যতা নিজের মধ্যে থাকতে হবে।

ডিইউ টাইমজঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য। আপনার অনুপ্রেরনা আগামীর সম্ভাবনা এই মর্মে আরও কিছু সফলতা আসবে আশা করা যায়। ভাল থাকবেন।
ওয়ারিসুল ইসলামঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার গ্রহনেঃ সাজিদুর রহমান, সুমাইয়া কুলসুম, শাফায়াত রিয়াদ।

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better