সাম্প্রতিক জঙ্গীবাদঃ কি ভাবছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা (প্রথম পর্ব)  

cats44

গত সোমবার সারা দেশের ন্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়ে গেলো জঙ্গীবাদ বিরোধী বিশাল মানববন্ধন

সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বড় এক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে জঙ্গীবাদ। বেশ কয়েকদিন আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়ার ঈদের জামাতে জঙ্গীরা হামলা চালিয়ে সারা বাংলাদেশকে স্তম্ভিত করে দেয়।

বর্তমানে জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে অনেক তরুণ যুবক যাদের অনেকেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তরুণ সমাজের জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়াটা ভাবিয়ে তুলছে আমাদের সবাইকে। যারা দেশের নেতৃত্ব দিবে ভবিষ্যতে তাদের এধরণের ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়াটা চিন্তার বিষয়ই বটে।

গত সোমবার সারা দেশের ন্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়ে গেলো জঙ্গীবাদ বিরোধী বিশাল মানববন্ধন। মূলত বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গীবাদের উত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই এই মানববন্ধনের উদ্দেশ্য। মাননীয় উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এইদেশে যারা জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু এই অবস্থা সম্পর্কে কি ভাবছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? তাদের মতামত জানতে ডিইউটাইমজ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছে। তাঁরা বিভিন্নভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু মতামত আজ প্রথম পর্বে তুলে ধরছি আমরা-

অর্থনীতি বিভাগের ফাহমিদা হক মজুমদার মীম বলেন “হিউম্যান চেইন কিংবা র‍্যলি কোন কিছুই যথেষ্ট নয় বর্তমান এ গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদ এ পুরোপুরি ধ্বংস করতে প্রয়োজন জনসচেতনতা, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন,প্রয়োজন বাবা মায়ের সঠিক তত্ত্বাবধান। অল্প বয়সে সব কিছু হাতের মুঠোয় পেয়ে যাওয়া কিংবা কোন কিছু না পাওয়ার হতাশা কোন কিছুই যেন অগাধ সম্ভাবনাময় তরুনদের বিপথে না নিতে পারে সেদিকে আপনার,আমার সকলের খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি।“

ভূতত্ত্ববিদ্যা বিভাগে ফারকুল ইসলাম ফাহাদের মতে “জাতি হিসেবে কখনই এত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়নি আমাদের। কঠিন এক চ্যালেঞ্জ সামনে। কেউ জানি না কি এর সমাধান। ফিনিক্স পাখির মত ছাই হতে আবার পুণঃজীবিত হতে চাই, ধর্ম-জাত-বর্ণ সকল কিছুর উর্ধে উঠে বাঙালী হিসেবে আবার জাগতে চাই।“

ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রী আনিকা শর্মিলি দুর্বা বলেন “ জঙ্গীবাদ বর্তমানে একটি ভাইরাসে রুপ নিয়েছে। এমন কোন দিন নেই যে আমরা সন্ত্রাসী হামলার খবর শুনি না। এটি একই সাথে ভয়ের এবং হতাশাজনক। হয়ত এখনই আমাদের সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় যেমনটি আমাদের পূর্বপুরুষেরা ১৯৭১ সালে করেছিলো। বাংলাদেশ জিতবেই।“

2016-07-25-11-55-01-426~2

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র রুবাইয়াত সাইমুম বলেন “সন্ত্রাসবাদ নিঃসন্দেহে আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় সমস্যা। কিন্তু সন্ত্রাসবাদকে কেবল নিরাপত্তার দিক থেকে দেখলেই চলবে না, সামাজিক কাঠামোগত সমস্যা ও সামাজিক অসঙ্গতির ব্যপারটাও মাথায় রাখতে হবে। এই সমস্যা আমাদের গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবেলা করতে হবে পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যগুলোও দূর করতে হবে।“

একই বিভাগে তানজিলা চৌধুরীর মতে, সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ নিয়ে চিন্তার চেয়ে দুশ্চিন্তা বেশি হচ্ছে। আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদের এমন উত্থান কিভাবে সম্ভব হলো সেটা নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের একযোগে কাজ করে এই সমস্যা সমাধান করা এখন সময়ের দাবি মাত্র।

রিফাত তাসনিম সুতপা বলেন “ আগে দাড়ি টুপিওয়ালা লোকদের আমরা ভয় পেতাম, এখন আমরা ভয়ে থাকি যে আক্রমণকারী যেকেউ হতে পারে। এটাই প্রমাণ করে জঙ্গীরা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কতখানি সফল! আমাদের সতর্ক থাকা উচিত যাতে আমরা জঙ্গীবাদীদের এই খেলার শিকার না হই। প্রচারেই জঙ্গীবাদের প্রসার হয়। তাই ভয় না পেয়ে বরং আমাদের একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র তাসাওয়ার সায়ান বলেন “গত দুই বছর ধরে এইটাই আশংকা করছিলাম। ধর্মীয় এক্সট্রিমিজমের কারণে যেই ঘটনা গুলো ঘটছিল সেগুলোকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বারবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি যেটা না করলে হয়তবা গুলশান এর ঘটনা ঘটনা টা হত না। আমাদের ভেতর উগ্রবাদীতা অনেক ভয়াবহ ভাবে ঢুকে গেছে এখন। তবে আমি আশাবাদী, ২০০৪-০৫ এ এরচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা আমাদের দেশে হয়েছিল,সবাই একসাথে সচেতন হলে এবারও শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ী হব।“

ইংরেজী বিভাগের সালমা খানুন সুস্মিতার মতে “ জঙ্গীবাদ যেহেতু সম্প্রতি অনেক বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে এর মোকাবেলা করা। আমরা সবাই এক হয়ে কাজ না করলে সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না একে পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা। নিজের ধর্ম ও এর মূল্যবোধ, নীতি সম্পর্কে জানুন, কোন ধর্মই হত্যা,রাহাজানিকে সমর্থন করে না। নিজের বিবেকবোধ থেকে দেশের হয়ে কাজ করুন। দেশটা যখন আমাদের তখন এর সুরক্ষার দায়িত্বও তো আমাদেরই।“

নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুলযাবাদাইন সাদমান সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জঙ্গী উত্থানের ব্যপারে বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষিত ভালো পরিবারের ছেলেরা সঠিক সঙ্গ এবং জ্ঞানের অভাবে জড়িয়ে পড়ছে এসব উগ্র মতধারার সাথে। পরিবারে থাকা এরকম বয়েসী সন্তানদের সাথে বাবা-মা এর একটা নির্দিষ্ট সময় যেন ব্যয় করেন তাদের সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা শুনে।  এতে করে সন্তান বিপথে যাওয়ার আগেই তাঁরা তা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।‘

পরবর্তী পর্বে শিক্ষার্থীদের ভাবনার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতামতও তুলে ধরা হবে

সালেহীন কবির রিফাত

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better