স্বপনমামার ৩২ বছরঃসাক্ষী সময়ের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নিয়মিত আসা হয় এমন মানুষজনের কাছে স্বপনমামা এক পরিচিত নাম। গতকাল থেকে ৩২ বছর পূর্বে টিএসসির ফুটপাতের সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকে প্রথম কোণায় চায়ের দোকান দেন তিনি। আর আজকে ছিলো তাঁর টিএসসি জীবনের ৩২তম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে ঢাবির কিছু সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে একটি ছোটখাট উদযাপন হয়ে গেলো সবার প্রিয় স্বপন মামার দোকানে।

দিনটিকে উদযাপনের উদ্দেশ্যে বিগত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে প্রচারণা চলছিল। এই উপলক্ষে একটি ইভেন্ট পেজ খোলা হয়। সেখানে উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে, “অনেক আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া অগণিত আড্ডাবাজ, চা খোর যারা এখন ক্যাম্পাস ছাড়া প্রায় সব অঙ্গনই মাতিয়ে তুলছেন কিন্তু ক্যাম্পাসে এলেই বুক জুড়ে এই বিজন শহর টাইপ হাহাকারে আকাশ কাঁপাতে চান। কিন্তু পারেন না। কারন কেউ না থাকলেও স্বপন মামা আছেন। এখনো সগর্বে চলমান ৩২ বছরের টিএসসি জীবনে স্বপনমামা হয়ে উঠেছেন ত্রিকালদর্শী স্বপন মামা, আমাদের সাইলেন্ট গার্জিয়া বা পুরনো অনেক অনেক মানুষের কাছে, দ্য লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং”। পেজটিতে টিএসসির নতুন পুরনো সকল মানুষজনকে আহ্বান করা হয়েছিল আজকের দিনটিতে এখানে এসে কিছু স্মৃতিচারণ করতে।13319886_1792080851014105_4943575429657353118_n

আজকের আয়োজনটিকে ঘিরে নিজেরা নিজেরা টাকা তুলে স্বপনমামার দোকান সাজানো হয়। এই দলের সকলেই স্বপন মামার দোকানের স্থায়ী বাসিন্দা, শিত-গ্রীস্ম-বর্ষা সবসময়েই তাদেরকে পাওয়া যায় এখানে চায়ের কাপে ঝড় তুলতে। আজকের দিনটিতে স্বপন মামাকে সম্পূর্ণ বসিয়ে রেখে নিজেরা নিজেরা চা বানায় এবং তা সবাইকে একদম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। চা, দুধ, চিনি ইত্যাদি ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা কিনে নিয়ে আসে। যারা টিএসসিতে নিয়মিত গানের আড্ডা বসায় তারা বিকাল ৩টা থেকেই বসে যায় মামার দোকানের সামনে। একেবারে ৮৮ সালে পাশ করা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে এই ১৬ তে ভর্তি হয়েছে এমন শিক্ষার্থী এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও যোগদান করেন এই আয়োজনে। সকলেই স্বপন মামার সাথে তাঁদের নানা স্মৃতি রোমমন্থন করেন।

13394179_1019655251421097_983079988840579878_n

কেমন ছিল আজকের অভিজ্ঞতা? চা বানিয়েছে এমন একজনের মতে, “চা বানানো এত সোজা না। খুব কষ্টের। তাছাড়া খুব গরম এখানে। মামা যে কিভাবে এটা করেন ভাবতে অবাক লাগে”। দোকানের সামনে শুভেচ্ছা বাক্স রাখা হয় যেটায় সবাই নিজেদের ইচ্ছেমতন টাকা দেন যা দিয়ে স্বপন মামা ও তাঁর পরিবারের জন্য উপহার কেনা হয়। সন্ধ্যায় ৩২ বছরপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

বাবার বয়সী একটা লোক, মুখে সিগারেট গুঁজে সারাটা দিন চা বানাচ্ছেন, হেলে দুলে হেঁটে বেড়াচ্ছেন আর কিছু একটা বললেই মুখে হালকা লাজুক আর প্রশ্রয়ের হাসি এনে বলছেন, “ব্যাপারটা দেখতাছি!”

অনেক অনেক ব্যাপার তিনি সত্যিই দেখেছেন।ঋতুর পালাবদল, রাজনৈতিক অদলবদল, দেশ সমাচার, অসংখ্য ছাত্র ছাত্রীর ভালোবাসার অত্যাচার, নিজের ছেলেমেয়ের সাথে হাজারো ছেলেমেয়ে দিয়ে পূর্ণ মণিকোঠা, অত:পর টিএসসির টিএসসি হয়ে ওঠা- হুম, এখনো স্বপন মামা দেখেই যাচ্ছেন।আর এভাবেই তিনি আমাদের মাঝে আরও অনেকদিন থাকুন এই শুভ কামনায় শেষ হয়  আয়োজনটি।

 

 

মাহীন বারী
ছবিঃফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better