প্যারিস থেকে ম্যানিলাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মেলনে – সৈয়দা নিশাত নায়লা

The Climate Reality Leadership Training Corps ; (From Paris to Manilla)কোপ ২১ জলবায়ু সম্মেলনের পরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবায়ু সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফিলিপাইনসের রাজধানী ম্যানিলাতে।’ ৩১তম The Climate Reality Leadership Training Corps 2016′ এর এবারের আয়োজনে অংশগ্রহন করে বিশ্বের ৬০ টি দেশের ৭০০ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী, ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট (activist), এনভায়রনমেনটাল প্রফেসনালস । মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং নোবেল বিজয়ী আল গোরের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয় তিনদিনব্যাপী এ বিশাল কর্মযজ্ঞ। এবারের আসরের মূল শ্লোগান ছিল #saynotocoal #sayyestorenewable. অনেকটা সৌভাগ্যবান বলা যেতে পারে, ম্যানিলার প্রশিক্ষণের বাংলাদেশ থেকে প্রথম এবং বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মেনটরের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাই আমি। প্রশিক্ষিত ৮৫০০ ক্লাইমেট লিডারদের মধ্যে বাছাই করে ১০ জন মেনটরকে সমগ্র বিশ্ব থেকে এবং ২০ জনকে ফিলিপাইনস থেকে নির্বাচিত করা হয় এবারের প্রশিক্ষণে।প্রশিক্ষণটি ছিল জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণয়নের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব পালনের অনুপ্রেরনার এক অসাধারন অভিজ্ঞতা।
bcfde826-46b6-464a-b2af-dada0a3cc4ee
প্রশিক্ষণের প্রথম দিন ১৪ মার্চ সফিটেল হোটেলে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মারিও মলিনা অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন এবং মঞ্চে আসেন মিঃ আল গোর। তিনি তার সুদীর্ঘ বক্তব্য ‘The Road to Decarbonization’ এ শক্তি উৎপাদক কারখানা, দৈনন্দিন ব্যবহার, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দ্বারা নিঃসরিত কার্বন এবং উন্নত বিশ্বের সুবৃহৎ কার্বন প্লান্টগুলোর সমূলে উৎপাটনসহ বিভিন্ন এমন বিষয় উপস্থাপন করেন যা দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ব্যাপক পরিবেশ সংকটের মুখে। কিন্তু আশার বাণীরূপে তার বক্তব্যে আবির্ভূত হয় নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার। সোলার প্যানেলের ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে বিশ্বকে সচেতন করে তোলার জন্যই আহবান জানান শান্তিতে নোবেলজয়ী ক্লাইমেট রিয়ালিটির চেয়ারম্যান আল গোর।
বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে সৌরশক্তির অবাধ ব্যবহারের প্রসঙ্গ বার বার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। বাংলাদেশ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী মিঃ আল গোর বাংলাদেশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ সোলার প্যানেল ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ঘোষণা দেন। ২য় দিনে আমার সুযোগ হয় মিঃ গোরকে সরাসরি প্রশ্ন করার, কিভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনসারধারন কম খরচে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যাবহার করতে পারবে, এর উত্তরে মিঃ আল গোর তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং আমাদের দেশের নোবেল বিজয়ী ডঃ মোঃ ইয়ুনুসের মাইক্রোক্রেডিট এর উধাহরন দেন। ভিন্দেশের মাটিতে সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে নিজের মাতৃভূমির সুপরিচয় নিঃসন্দেহে সুখকর অনুভূতি আনায়ন করেছিল।
এছাড়াও প্রশিক্ষণের সঞ্চালক হয়ে উপস্থিত ছিলেন, প্রোফেসর ডন হেনরি, নোবেল বিজয়ী ডঃ হেনরি পলাক, প্রেসিডেন্ট কেনিথ বারলিন, ফিল্লিপিনেসে সিনেটের লরেন লেগারদা।
এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কার্যকরী নেতৃত্ব তৈরি করা, যাঁরা কাজ করবেন পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষার্থে, কাজ করবেন পরিবেশের বিপর্যয় রোধে, একই সঙ্গে অপরকে অনুপ্রাণিত করবেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্বন্ধে জানতে ও সচেতন হতে। সমগ্র বিশ্বে এই সংস্থার অধীনে বর্তমানে প্রায় শতাধিক দেশের ৯২০০ ‘ক্লাইমেট লিডার’ রয়েছেন, যাঁরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কাজ করে যাচ্ছেন।
৩১তম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বুয়েটের সুহা তাবিল, ব্লাস্তে কর্মরত হাবিবা ইসলাম, graystone র লিগাল advisor মোঃ শাখাওাত এবং POPI প্রোগ্রাম ম্যানেজার শরিফ আলম। এছাড়াও বাংলাদেশের ম্যানেজার দিপু হক মেনটরের দায়িত্ব পালন করে এবং মেনটরের দায়িত্বে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালায়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সৈয়দা নিশাত নায়লা।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত  নতুন ক্লাইমেট লিডারের কাজের মধ্যে থাকবে পরিবেশের জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যেকোনো কর্মসূচি যেমন ব্লগিং, শেয়ারিংয়, মিডিয়ায় পরিবেশ-সংক্রান্ত কার্যক্রম , সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে মানুষকে সচেতন করা, মাঠপর্যায়ে পরিবেশে উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর আয়োজন।
সুহা তাবিল তাঁর প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ‘কার্বন নিঃসরণ কিভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধূলিসাৎ করতে পারে, সেই সাথে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং তার ক্রমবৃদ্ধি কিভাবে একটি সুন্দর, দূষণমুক্ত নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে, তারই গভীর এবং বদ্ধমূল প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবারের আয়োজনে।’ আরও বলেন ‘Small things done are always better than big things planned’১৬ মার্চ প্রশিক্ষণের শেষদিন আল গোর তাঁর বাক্তিগত জীবনের আবেগময় একটি ঘটনার মাধ্যমে সকলকে অনুপ্রানিত করেন এবং তাঁর শেষ উক্তি ছিল “হোলড অন”, অর্থ আশা হারিয়ো না, যুদ্ধ করতে থাকো, যুদ্ধটা মানব জাতির অস্তিস্ত্বের লড়াইয়ের যুদ্ধ, লাখো অসহায় দুর্যোগপ্রবল মানুষের  বেঁচে থাকার যুদ্ধ, প্রকৃতি এবং পরিবেশের যুদ্ধ।ক্লাইমেট রিয়ালিটির ৩২তম ট্রেনিং হবে এবছর জুনে এশিয়া মহাদেশে, বিস্তারিত জানতে ওয়েবসাইট লিঙ্কঃ www.climaterealitytraining.orgসৈয়দা নিশাত নায়লা
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্লাইমেট মেনটর,ক্লাইমেট রিয়ালিটি

 সম্পাদনাঃ মোঃখায়রুল বাশার
Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better