আই জাস্ট ডোন্ট গিভ আপ। আই হ্যাভ গিভেন আপ অন গিভিং আপ। -সোনিয়া বশির কবির

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বে গোটা দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয়। পৃথিবী শাসন করছে তথ্য প্রযুক্তি। যার কাছে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান যত সমৃদ্ধ সেই তত সর্বময় কর্তার অধিকারী। উন্নত দেশ গুলো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশ গুলোও এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির এত এত উন্নয়নের নেপথ্য কাজ করছে কিছু মহৎ প্রাণ ব্যক্তি। বাংলাদেশও আজ পিছিয়ে নেই এ দিক থেকে। সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত দেশ গুলোর মত করে। তথ্য প্রযুক্তির এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া এক মহত্‍ প্রাণ ব্যক্তি হচ্ছে সোনিয়া বশীর কবির। যিনি মাইক্রোসফটের বাংলাদেশ অংশের কাউন্ট্রি হেড হিসেবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হয়ে কাজ করছেন। তার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলো  ডিউ টাইমজ। যার উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ ছিলো এরকম:

11043165_959215337451819_7946890800706403367_n
-আপনার ছেলেবেলা সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

আমার ছোটবেলা অত্যান্ত মজার ছিলো, খুব ডানপিটে স্বভাবের ছিলাম। আমি বড় হয়েছি আমার ছোট ২ ভাইয়ের সাথে। আমার মা-বাবা আমাকে কখনও ছেলে-মেয়ের পার্থক্য বুঝতে দেয়নি। আর একটা কথা বলতে পারি, আমি যদিও মেয়ে তারপরও কোনদিন পুতুল নিয়ে খেলিনি। ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন খেলতাম খুব। আবাহনীর হয়ে ভলিবল খেলতাম। সর্টস পরে খেলতে হতো তখন। এজন্য সামাজিক ভাবে অনেক কথা শুনলেও, মা-বাবা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। অ্যান্ড, আমি সব সময়ই স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম।

-শিক্ষাজীবনটা কেমন ছিলো?

আমি গ্রীন হেরাল্ড স্কুলে পড়ি এরপর সিনিয়র ক্যামব্রিজ দিয়ে ভিকারুননেসা নূন কলেজে ভর্তি হই ও সেখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। স্কুল জীবনে অনেক খেলাধুলা করেছি। কখনো দ্বিতীয় হয়নি ঐসব খেলাধুলায়। ক্লাস-৬ এ থাকাকালীন সময়ে আবাহনীর ভলিবল টিমে খেলতাম। জাতীয় ক্রিকেট টিমেও খেলেছি। ইন্টারমিডিয়েটের পর ঘটনাক্রমে বিয়ে হয়ে গেলেও আমি পড়ালেখা চালিয়ে গিয়েছি। বরের সাথে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে চলে যাই এবং ওখানেই আমার ব্যাচেলর অব সাইন্স ও এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করি। সিলিকন ভ্যালি যাবার আগে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে এক বছর পড়াশুনা করি।

-আপনি কর্মজীবনে কিভাবে প্রবেশ করলেন?

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাস্টার্স অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন করতে চাইলে, তারা কমপক্ষে ৫ বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা চাইলো, তাই আমি আগে থেকেই কয়েকটি ফিনান্সিয়াল কোম্পানি ও ইনভেস্টমেন্ট হাউসে কাজ শুরু করি। এবং পড়ালেখাও চালিয়ে যাই। সবশেষে জয়েন করি সান মারিকো সিস্টেম নামক একটি ফার্মে। সেখানে প্রায় ৯ বছর কাজ করি। তাছাড়া আমি ডেল কোম্পানিতেও কাজ করি। আর, সিলিকন ভ্যালিতে আমি ১৫ বছর কাজ করি।

-আমরা যদি সিলিকন ভ্যালির মত একটি ক্ষেত্র বাংলাদেশে করতে চাই, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কি কি সাহায্য দেওয়া দরকার?

এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরকেই নিজেদের সাহায্য করা উচিত। সরকার শুধুমাত্র আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই বিষয়ে অনেক ভালো করছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে তিনি একটি ‘স্টার্টআপ কালচার’ তৈরি করে দিচ্ছেন। এই কালচারটি চলতে থাকলে আমাদের সোনালি ভবিষ্যতে পৌঁছানো খুব সহজ। কারণ, ক্রিয়েটিং জবস এন্ড ডিস্ট্রিবিউশ অফ ওয়েলথ কাম ফ্রম এন্ট্রাপ্রেনারশিপ। আমাদের উচিত চাকরীর পিছনে না ঘুরে, উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদেরই চাকরীর ব্যবস্থা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের উচিত অর্থায়নের ব্যবস্থাটি সুনিশ্চিত করা। তাহলেই সম্ভব।

-সরকারের পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে ভেনচার ক্যাপিটাল গুলো কিভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে?

বাহিরের টাকা না এনে নিজেদেরই অর্থায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। আর, আমাদের অনেক ব্যবসায়ীর অনেক টাকা আছে। দে আর লুকিং ফর অপরচুনিটিস টু ইনভেস্ট। ইনভেস্টরা দেখতে চায় পারসিসটেন্স এন্ড রিজিলিয়েন্স। ‘আমি ছাড়ব না’ এমন একটা মনোভাব তাঁদের দেখাতে হবে। তাহলেই ইনভেস্টররা একটা আস্থা অর্জন করবে উদ্যোক্তাদের  উপর।

-আমাদের দেশে একজন মহিলা বসের অধীনে কাজ করার মানুষিকতা কি তৈরি হয়েছে?

হ্যাঁ অবশ্যই। আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকারের পদে বর্তমানে নারীর স্থান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে হিসেবে বিষয়টি এখন খুবই সাধারণভাবে নেওয়া হচ্ছে। এবং আমার কাছে বাঙালী জনগনদের নারীদের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল মনোভাবাপন্ন মনে হয়েছে। এন্ড, দি মেন অব বাংলাদেশ আর রেস্পেক্টফুল টুওয়ার্ডস উইমেন।

-আপনার মতে সাফল্যের সংজ্ঞা কি?

সাকসেস টু মি ইস দ্যাট আই লুক ব্যাক এন্ড আই এঞ্জয় হোয়াট আই হ্যাভ ডান।  আমার কাছে সাফল্যের কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। আমি যা করে মজা পাই, আনন্দ তাই আমার কাছে সাফল্য।

- আপনার সাফল্যের ভিত্তিটা কি?

সেরকম কোন ভিত্তি নেই। আই জাস্ট ডোন্ট গিভ আপ। আই হ্যাভ গিভেন আপ টু গিভ আপ।

-নতুন যারা গ্রাজুয়েট হচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে আপনার কি মতামত থাকবে?

তাদের অবশ্যই বড় স্বপ্ন থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা তাদেরকেই নিতে হবে। কাজের প্রতি মনযোগী হতে হবে, তাহলেই যে কোন ক্ষেত্রে ভালো করা সম্ভব।

 

সাক্ষাৎকারঃ সাজিদুর রহমান, শাফাত কাদির ও মোরসালিন অনিক।

শ্রুতলিখনঃ এমদাদুল হক রন।

 

Share Button
Print Friendly
Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better