কেমন আছে আপনার অনলাইন স্বাস্থ্য? (পর্ব ০৫)

ডার্ক কমেট 

নাম শুনে মনে হতেই পারে যে অনলাইনে মহাকাশের কমেট আসলো কোথা থেকে। আসলে এটা মহাকাশের কোন কমেট না, অনলাইন জগতে একটা রোমাঞ্ছকর জিনিসের নাম।  কেমন হত যদি আপনার হাতে দূর থেকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা থাকতো? ইচ্ছা করলেই যা কিছু করতে পারতেন যেকোন জায়গা থেকে। কতই না উপকার হত! এমনি চিন্তা ভাবনা থেকে ফ্রান্স এর এক প্রোগ্রামার একই সাথে কম্পিউটার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষক “JEAN PIERRE LESUEUR”
যিনি “DarkCoderSc” এই ছদ্দনামেও পরিচিত বানিয়ে ফেলেন একটি প্রোগ্রাম আর তিনি এটাকে ডাকতেন “Remote Administration Tool”।secured

সব কিছুরই খারাপ দিক থাকে এবং তার মাথায়ও ছিল, এটার ক্ষেত্রেও তা দেখা গেল। ক্রমেই এটা “Remote Administration Tool” থেকে হয়ে গেল ““Remote Administration Trojan” বা “Remote Access Trojan” . সর্বত্র হ্যাকাররা এটাকে খারাপ কাজে ব্যবহার শুরু করে দিল। যদিও এটা বানানো হয় ২০০৮ সালের দিকে কিন্তু এটার ব্যবহার বারতে থাকে ২০১২ এর শুরুর দিকে।  প্রশ্ন উঠতে পারে কি করা যাবে এটা দিয়ে? আমি উত্তরে বলবো কি না করা যাবে! অসাধারন গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস এটাকে সদ্য কম্পিউটারে বসা বাচ্চার কাছেও সহজ করে দিয়েছে।
আসুন দেখি এর কয়েকটি গুন-
১. সম্পুর্ন কম্পিউটারের এডমিন ক্ষমতা গ্রহন
২. কম্পিউটার এর উসারনামে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়া
৩. কি টাইপ করছি তা দেখা
৪. ওয়েবক্যাম দিয়ে ছবি তোলা
৫. মাইক্রো ফোনে আড়ি পাতা
৬. প্রোগাম নিয়ন্ত্রন
৭. পিসি অফ, স্লিপ, রিস্টার্ট সহ আরো সব কিছুও!!
সব চেয়ে মজার বিষয় হল সব কিছু হবে চোখের অগোচরে। কেউ টেরও পাবে না। এ পর্যন্ত শুনেই হয়ত অনেকে গুগল করা শুরু করে দিয়েছেন । তার আগে এর হিস্ট্রি তো শুনে যান

# সর্ব প্রথম ২০১২ সালে যুক্তরাষ্টের আরবোস নেটওয়ার্ক কোম্পানী ডার্ক কমেট এর অস্তিত্ত খুজে পায় যা কিনা মিলিটারি ও গেমারদের জন্য ছাড়া হয় কিছু নাম না জানা হ্যাকারদের দ্বারা। তখন এটা শুধু যুক্তরাষ্টের মধ্যেই ছিল।

#২০১৪ সালের কথা , পটভুমি সিরিয়া , প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ মরিয়া তার বিদ্রোহিদের থামানোর জন্য। দেশে অনলাইনের সকল কিছুতেই নজরদাড়ি এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। কিন্তু তবুও মানুষ ভিপিএন ও অন্যান্য সিকিউর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইন কার্যক্রম চালাতে থাকে। ঠিক তখন সরকার ডার্ক কমেট এর সাহায্য নেয়। সরকার দেশের সকল কম্পিউটার এ স্কাইপ এর মাধ্যমে এটাকে ছড়িয়ে দেয়। মেসেজ এর নাম ছিল “BOOBY-TRAPPED SKYPE CHAT MESSAGE” যেটার আইকন ছিল ফেসবুক এর মত দেখতে। মুলত সেটা ছিল নিজে থেকে ইন্সটল হয়ে জাওয়ার মত বানানো ডার্ক কমেট। ডাউনলোড করার সাথে সাথে ইন্সটল হয়ে গিয়েছিল অসংক্ষ একটিভিষ্ট দের কম্পিউটারে যা তারা জান্তেও পারেনি। সরকার তখন অনেককে আটক করতে সক্ষম হয়। এটা খুব দ্রুত সারা দেশে ছড়ায় কারন এটা ভিকটিম এর পিসি থেকে সবাইকে একই মেসেজ পাঠাতে পারতো।

যখন ডার্ক কমেট সিরিয়ার সাথে যুক্ত হয় ঠিক তারপর থেকেই এর নির্মাতা এটা আরো উন্নত করা থেকে বিরত হয়ে জান এবং বলেন “আমি কখনই ভাবি নি যে কোন সরকার এটা নজরদাড়ির জন্য ব্যবহার করবে” তিনি আরো বলেন “ ্যদি আমি আগে এটা জানতাম তাহলে কখনই এ ধরনের কিছু বানাতাম না”

# ক্যালিফোর্নিয়ার ১৯ বছর বয়সী জারেদ জেমস আব্রাহাম ২০১২ সালের দিখে Miss Teen USA জয়ী Cassidy Wolf এর ল্যাপটপে এটাকে ইন্সটল করে দেন। তারপর তার ওয়েবক্যাম দিয়ে তার নগ্ন ছবি তুলে ফেলেন। ছেলেটি রেহাই পায় নি । FBI তাকে ধরে ফেলে এবং জানতে পারে সে ১৫০ টি কম্পিউটারে এক সাথে নজরদাড়ি করছিল তরুন মেয়েদের নগ্ন ছবি তোলার জন্য। পরে অবশ্য তাকে $৫০০০০ ডলার জামানতে ছেড়ে দেয়া হয়

ভয়াবহতার দিক চিন্তা করলে এটাই এ যাবত কালের সব চেয়ে বড় ট্রোজেন। এখন কিছু সতর্কতা বানি। জানি অকেনেই খুজতেসেন সফটওয়্যার টা । নেটে একই নামে পেয়েও যাবেন । কিন্তু সাবধান সব গুলা ভুয়া ৫.৩.১ লেগাসি ভার্সন এর পর এটা আর বানানো হয় নি আর এটা পেলেও দেখবেন আপনার নিজের কম্পিউটার এর নিয়ন্ত্রন হ্যাকারদের হাতে চলে যাবে।
তবে চিন্তার কারন নাই বর্তমানের সব এন্টি ভাইরাস এটাকে ধরতে সক্ষম। আপনার অনলাইন স্বাস্থ্য ভালই আছে। ডার্ক কমেট নিয়ে এক পর্বে শেষ করা কষ্টের তবে আশা করছি এটা নিয়ে আবার ফিরে আসবো।

রায়হান মিয়াজি রাব্বি

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better