আধুনিক স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যের অনন্য মিশ্রণ ঢাবি’র “বিজনেস ফ্যাকাল্টি”

ঢাকা শহরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এলাকা গুলোর নাম নিলে প্রথমেই যে এলাকাটির কথা চোখের সামনে ভেসে উঠবে তা হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জাতীয় গৌরবের বিভিন্ন স্থাপনায় সমৃদ্ধ যার চারপাশ। সবার জন্য উন্মুক্ত সেই ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র’ তোরণের নিচ দিয়ে প্রবেশের সাথে সাথে একরাশ সবুজের সমারোহ নিয়ে বরণ করে নিবে আপনাকে।৩৭ ফুট উঁচু তোরণটির নিচ দিয়ে প্রবেশের পর অনন্য এক ভালো লাগাকাজ করবে যে কারো; বিশেষ করে সড়ক দ্বিপের সৌন্দর্য গুলো এ কাজটি করতে বাধ্য। সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে সামনে এগোতে থাকলে কলা ভবন ও লেকচার থিয়েটারের পর সৌন্দর্যের আরেক বিস্ময় যে কাউকেই কাছে টানবে।

হ্যাঁ, বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির কথা। প্রতি দিনই হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পদ ভারে মুখরিত থাকে এর আঙিনা। মাঝে মাঝে এর স্থাপত্য কলায় মুগ্ধ হতে অনেকেই পাড়ি জমায় এর আঙিনায়। অনুষদের রাজকীয় সদৃশ সেই ফটক দিয়ে প্রবেশের পর প্রথমেই যে কারো চোখ আটকে দিবে অবিরত ধারায় প্রবাহিত “বিদ্যানহর” ঝর্ণাটি। ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল, ঢাবির উপাচার্য ও অনুষদের ডিন স্যারের হাতে উদ্ভোধন হওয়া অনন্য এই স্থাপনাটি দিনের একেক ভাবে এক এক রুপ, সত্যিই দেখার মত। সামনে অপেক্ষা করছে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর আরও কিছু সৃষ্টি। অনুষদের “এমবিএ ভবন” এমনই একটি। প্রতিদিনই বিভিন্ন বিভাগের হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের জালবোনার সূতিকাগার এই ১০তলা উঁচু ভবন। প্রায় প্রতিটি বিভাগেরই ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এখানে। শিক্ষকদের দিক-নির্দেশনার কারনে এখান থেকেই প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পায়।

10407758_874793915898123_186028587498401739_n

২টি অংশে বিভক্ত ভবনটির “ইস্টার্ন উইং” অংশটির উদ্ভোধন করা হয় ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর। এর নিচ তলায় আছে ছেলেদের জন্য সুবিস্তৃত নামাজ কক্ষ। মনোরম, পরিপাটি করে সাজানো এর প্রতিটি অংশ। নিচ তলার অন্য পাশে আছে  সমৃদ্ধ “ফুড কোর্ট” ও “বয়েজ কমন রুম”। স্বাস্থ্য সম্মত ও রুচিকর দেশি-বিদেশি প্রতিটি খাবারই পাওয়া যাবে ফুড কোর্টে, কিন্তু দামের ব্যাপারে অবশ্যই একটু সচেতন থাকতে হবে। আর “বয়েজ কমন রুম”সে তো এক ছোট-খাটো আড্ডা স্থল। কি থাকে না সেখানে? নিজেদের ভবিষ্যৎ চিন্তা-ভাবনা, পড়ালেখা ,বন্ধুদের খুনসুটি সবকিছু মিশ্রন যেন এই রুমটি। আড্ডার পরিবেশকে আরও জমিয়ে তুলতে সুবিশাল পর্দার টেলিভিশন ও আইসক্রিম পার্লার স্থাপন করা হয়েছে এখানে। অন্য পাশে আছে ক্যারাম ও দাবা খেলার ব্যবস্থা।

1459743_250794785071484_855490222_nঅনুষদের বিভিন্ন বিভাগের যেমনঃ ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্স, আইবি, এমআইস ও টি.এইচ.এম এর নিজস্ব অফিস রুম গুলোর অবস্থান ও এই ভবনে।আধুনিক স্থাপনার আরেক সমন্বয় ব্যবসায় গবেষণা ব্যুরো’র দেখা পাওয়া যাবে ভবনের ৯ম তলায়।১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিনিয়ত আধুনিক অবকাঠামো দ্বারা সজ্জিত করা হচ্ছে একে, যাতে করে গবেষকগণ আরও উন্নততর গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় বাণিজ্য উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। এর নিচ তলায় আছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সন্তান দেখাশোনার ও খেলাধুলার জন্য বেবি কেয়ার সেন্টার।

1098539_288631467954482_306545620_n ১০ তলায় আছে জ্ঞান সমুদ্র ভাণ্ডার “সেমিনার লাইব্রেরি” হাজার হাজার বই, জার্নালে সমৃদ্ধ এই লাইব্রেরি। অনুষদের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত এই জ্ঞান কক্ষের দ্বার। এছাড়াও দুটি সুবিশাল এক্সাম হলও হতে যাচ্ছে এখানে । বিজনেস ফ্যাকাল্টির অন্য দিকে আছে একাডেমিক ভবন, ইনফরমেশন ডেস্ক, টিচার্স লাউঞ্জ, গার্লস কমন রুম, কনফারেন্স রুম। প্রতিটি অংশই যেন আধুনিকতার এক একটি ছোঁয়া, প্রায় ২৫০ আসন সমৃদ্ধ কনফারেন্স রুমে প্রতিদিনই কোন না কোন সভা সেমিনারে মুখরিত থাকে। জ্ঞান আহরণ ও আদান-প্রদান অনন্য সুযোগ এই কনফারেন্স রুম । “গার্লস কমন রুমে” আছে মেয়েদের নামাজের কক্ষ ও পড়ার আলাদা ব্যবস্থা। আর কিছুদিন পরেই উদ্বোধন করা হবে চোখ ধাঁধানো ই-লাইব্রেরীর ।

10259909_10200738016412582_1343966475945499789_n

তাছাড়া অনুষদের মৌসুমি বিভিন্ন ফুল জবা, শেফালী, বাগানবিলাস, পাতাবাহার, ক্যাকটাসের সমারোহে বিমোহিত হয় এর প্রতিটি শিক্ষার্থী। অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের স্বদিচ্ছা ও প্রত্যক্ষ তদারকির ফলে যে ধারার সূচনা হয়েছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। ইতো মধ্যে তিনি ই-লাইব্রেরি, রুফটপ ক্যাফেটেরিয়া ও ডিজিটাল বুলেটিন বোর্ড স্থাপন করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবকরন হলে নব সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপনার অনন্য মিশ্রন ঘটবে ঢাবির এই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে। আমাদের সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় এগিয়ে যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরসবুজ এই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ।

এমদাদুল হক 

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better