পারমাণু প্রকৌশল বিভাগঃ স্বপ্নের আলোকবর্তিকা হাতে

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ও প্রবিধান-১৯৭৩” অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০১২ সালে পারমাণু প্রকৌশল বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুলত দক্ষ পারমানু প্রকৌশলীর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই বিভাগটি চালু করা হয়েছে। বিভাগটির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন প্রফেসর ডঃ খোরশেদ আহমেদ কবির। প্রথমত বিভাগটিতে পারমাণু প্রকৌশল বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। ৮ ডিসেম্বর ২০১২-তে মাস্টার্স প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বিভাগটি তার একাডেমিক কার্যক্রম আরম্ভ করে।

০২-১২-২০১২ তারিখে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শুভ উদ্ভোধন

০২-১২-২০১২ তারিখে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শুভ উদ্ভোধন

 

পরবর্তী বছরেই খোলা হয় বিএস কোর্স। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কার্জন হল এলাকার বিজ্ঞান কারখানার দ্বিতীয় তলায় বিভাগটি তার শিক্ষা-কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে খোন্দকার মোকাররম হোসেন ভবনে এবং বর্তমানে কাজী মোতাহার হোসেন ভবনে বিভাগের ক্লাসসমূহ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভাগের ল্যাবগুলোও স্থাপন করা হয়েছে কাজী মোতাহার হোসেন ভবনে। বর্তমানে পদার্থ, ইলেকট্রনিকস, ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট, রেডিয়েশন ডিটেকশন অ্যান্ড মনিটরিং এবং থার্মাল হাইড্রোলিক্স এই ৫টি ল্যাব আছে বিভাগটিতে। এই ল্যাবগুলোতে রয়েছে দেড় কোটি টাকা সমমূল্যের পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি। এছাড়াও আরও ৫টি ল্যাব স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে এই বিভাগটিতে এখনো অনেক পরীক্ষণ যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। উচ্চতর গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীরা সাভারে অবস্থিত ৩-মেগাওয়াট রিসার্চ রিয়াক্টর (TRIGA Mark-II Research Reactor) এ গবেষণা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিভাগ এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ খোরশেদ আহমেদ কবির (বাম থেকে পঞ্চম ) ও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ রফিকুল ইসলাম(বাম থেকে তৃতীয়) সহ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ

বিভাগ এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ খোরশেদ আহমেদ কবির (বাম থেকে পঞ্চম ) ও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ রফিকুল ইসলাম(বাম থেকে তৃতীয়) সহ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ

 

এই বিভাগটি খোলার পর থেকেই রাশিয়া থেকে বৃত্তি আসতে শুরু করে। ২০১৩ সালে বিএস শ্রেণীর ২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৪ জন পারমাণু প্রকৌশল বিষয়ের উপর পড়াশোনা করার জন্য রাশিয়া যান। ২০১৪ সালেও বিএস শ্রেণী থেকে ৬ জন এবং মাস্টার্স থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর রাশিয়া যাওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাত্র তিন বছরের পথ পরিক্রমায় বিভাগটি দেশে পারমাণবিক বিজ্ঞান চর্চায় অগ্রগণ্য ভুমিকা রেখে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিভাগটি থেকে মাস্টার্স এর শিক্ষার্থীরা Radioprotection (Cambridge University Journal), Annals of Nuclear Energy এর মত বিখ্যাত জার্নাল এ তাদের রিসার্চ পেপার প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। বিভাগের ছাত্ররা তৈরি করেছে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন Reactor Miniature যা কিনা “জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ-২০১৪”-এর প্রতিযোগিতায় ১ম পুরস্কার লাভ করেছে। জনসচেতনা বাড়ানোর লক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে সেমিনার এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনারও আয়োজন করেছে এই বিভাগটি। সেমিনার এর পাশাপাশি অলেম্পিয়াড, নিউক্লিয়ার ফেস্ট এর মত প্রোগ্রাম এর আয়োজন ও করছে বিভাগ এর শিক্ষার্থীরা। বিভাগের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিভাগের লেকচারার ফজলুল হক বলেন,”দেশকে উন্নয়নশীল দেশ এর কাতার থেকে উন্নত দেশ এ রূপান্তরিত করতে হলে ইলেক্ট্রিসিটির বিকল্প নেই। আর এই ইলেক্ট্রিসিটির পরিবেশবান্ধব উৎস হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশ এ যারা এই খাত কে নিয়ন্ত্রণ করবে সেই কারিগরদের সুচারুরূপে তৈরি করছে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট”। এই কারিগররাই ভবিষ্যতে দেশে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে দেশকে নিয়ে যাবে উন্নয়নের শিখরে তাদের কাছে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

গোলাম সারোয়ার রাকিব

 

 

Share Button
Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Close
Please support the site
By clicking any of these buttons you help our site to get better